চট্টগ্রামে বিনিয়োগ নিয়ে আস্থাহীন ব্যবসায়ীরা |গ্যাস সংকট, চার মাসে বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে মাত্র ৮২০ কোটি

চলতি মাসেই বিদেশ থেকে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। কিন্তু সরকারের এই ঘোষণায় আস্তা রাখতে পারছেন না বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। গ্যাস সংকটের ফলে গত চারমাসে চট্টগ্রামে বিনিয়োগে আশানুরূপ সাড়া দেননি তারা। এই সময়ের মধ্যে বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে মাত্র ৮২০ কোটি টাকার। এর মধ্যে ৫০ কোটি টাকার ওপর বিনিয়োগ প্রস্তাব করেছে মাত্র পাঁচটি প্রতিষ্ঠান।এদিকে ভিন্নমত পোষণ করে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) উপপরিচালক মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, বিনিয়োগে সরকারের নীতিগত পরিবর্তন আনায় চট্টগ্রামে বিনিয়োগ বাড়ছে। তরলীকৃত গ্যাস চট্টগ্রামে আসার পথে রয়েছে। আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে চট্টগ্রামে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়বে।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম আমাদের সময়কে বলেন, এতদিন ব্যবসায়ীরা এলএনজির জন্য অপেক্ষা করেছেন। এখন তা চট্টগ্রামে আসছে। তবে সেটা এখানো ব্যবসায়ীরা পাচ্ছেন না। কারণ এলএনজি এখনো গ্রাহকরা পাওয়ার মতো অবস্থায় নেই। চট্টগ্রামে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে অবশ্যইব্যবসায়ীরা গ্যাস সংকটের বিষয়টি মাথায় রেখেছেন। ব্যবসায়ীরা সবার আগে চাইবেন গ্যাস সমস্যার সমাধান। এরপরই তারা বিনিয়োগ করবেন।বিডা চট্টগ্রাম কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ২১টি ক্যাটাগরিতে যৌথ ও বিদেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব করেছে ৫৩টি প্রতিষ্ঠান। প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ ৮২০ কোটি টাকা। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান হবে ৫ হাজার ৫০৭ জন লোকের।২১ ক্যাটাগরির মধ্যে ৫০ কোটি টাকার ওপর বিনিয়োগের জন্য প্রস্তাব করেছে মাত্র ৫টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি চট্টগ্রামের নিমতলা এলাকায় পিয়া অটো ব্রিকস লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান ৬০ কোটি টাকার বিনিয়োগের জন্য প্রস্তাব করে। নগরীর মেহেদীবাগে নতুন করে ন্যাশনাল হাসপাতাল ৫০ কোটি টাকার বিনিয়োগের জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। এলপিজি গ্যাসে বিনিয়োগ করার জন্য প্রস্তাব করে মাত্র দুইটি প্রতিষ্ঠান। আছাদগঞ্জে বাদশা ফিলিং নেট অ্যান্ড রোপা ইন্ডাস্ট্রিজ এবং আগ্রাবাদে ইউনিটেক্স সিলিন্ডার লিমিটেড। প্রতিষ্ঠান দুটি বিনিয়োগের জন্য ১৮৯ কোটি টাকা প্রস্তাব করে। এ ছাড়া পোলট্রি হ্যাচারিতে প্রভিটা এগ্রো লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানটি ৭৩ কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রস্তাব করেছে। এর বাইরে আর যেসব প্রতিষ্ঠান আছে সেগুলো ১০ কোটি টাকার নিচে।এ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া গত চার মাসে বিডাতে বড় কোনো বিনিয়োগের জন্য প্রস্তাব আসেনি। অথচ ব্যবসায়ী নেতারা বলে আসছিলেন, এলএনজি গ্যাস আসলে চট্টগ্রামে বিনিয়োগ বাড়বে। কিন্তু গত তিন মাসে তেমন একটা বিনিয়োগ আসেনি।২০১৭ সালে ১৪৭টি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের জন্য প্রস্তাব করে ৬ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা। কর্মসংস্থান হয় ১৬ হাজার ৭৯৫ জন লোকের। ২০১৬ সালে ১৬২টি প্রতিষ্ঠান ৬ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা। এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ পায় ১৪ হাজার ৫১৯ লোক। একইভাবে ২০১৫ সালে ১৩৭টি প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করার জন্য নিবন্ধন করে। ৩৩৬ কোটি টাকার বিনিয়োগে কর্মসংস্থান হয় ১২ হাজার ৫০৬ জন লোকের।ব্যবসায়ীরা বলছেন, চট্টগ্রামে প্রস্তাবিত বিনিয়োগ ক্রমান্বয়ে বাড়লেও প্রধানমন্ত্রীর কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ এখানে হচ্ছে না। বিশেষ করে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে আসছেন না। তবে বড় বড় শিল্প গ্রুপ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় বিনিয়োগ করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের কিছু নীতিগত পরিবর্তনের কারণে দেশি বিনিয়োগ নিবন্ধন বাড়ছে। ব্যবসা সম্প্রসারণে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। জমির উচ্চমূল্য, ব্যাংক সুদের হার বৃদ্ধি ও গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামে আশানুরূপ নিবন্ধন হচ্ছে না। এ অবস্থায় এলএনজির সরবরাহ বাস্তবিকপক্ষে শুরু হলে এবং মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে অবকাঠামো তৈরি হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
COSL-Content Origin Source Link >
==============================
You may improve this content here if you found any inappropriate or just add/edit for content quality issue, improve it by logging in with this following open credential -
[caption id="attachment_31989" align="aligncenter" width="600"]
Improve this content[/caption]==============================
Post Your News, Views, Conscience etc on MyCtgBangla .MCB
[caption id="attachment_31989" align="aligncenter" width="600"]
Post any other New Content[/caption]
Comments
Post a Comment