৪ মাসে দেড় লাখ টন ছোলা খালাস চট্টগ্রাম বন্দরে

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর দিয়ে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে দেড় লাখ টন ছোলা এসেছে। অস্ট্রেলিয়া থেকেই বেশিরভাগ ছোলা আমদানি হয়েছে। এ ছাড়া আরব আমিরাত, বাহরাইন, ইথিওপিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড, তানজানিয়া, মিয়ানমার থেকেও ছোলা আমদানি হয়েছে এ বন্দর দিয়ে।
এর বাইরে কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়েও মিয়ানমার থেকে বিপুল পরিমাণ উন্নতমানের ছোলা আমদানি হয়েছে। ফলে রমজান মাসে ইফতারের অত্যাবশ্যকীয় ভোগ্যপণ্য ছোলা নিয়ে এবার দেশে স্বস্তি থাকবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ছোলা আমদানিকারক ও বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, ভারতে প্রচুর ছোলা উৎপাদন হওয়ায় দেশটি চাষিদের সুরক্ষা দিতে আমদানিতে শুল্ক আরোপ করেছে। তার প্রভাব পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার ছোলার বাজারে। এবার বুকিং রেট কম ছিল। মানভেদে প্রতিকেজি ছোলা ৪৬ থেকে ৫৮ টাকা পর্যন্ত কিনতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বাজারে। বাংলাদেশে ওভার ইমপোর্ট হয়েছে। আমাদের কিছু ছোলা খালাস করেছি। কিছু পাইপলাইনে আছে। খাতুনগঞ্জে বর্তমানে পাইকারিতে প্রতিকেজি ছোলা মানভেদে ৪৮ থেকে ৫৮ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের হিসাবে বছরে বাংলাদেশে ছোলার চাহিদা ২ লাখ ২০ হাজার টন থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার টন। এর মধ্যে রমজান মাসে চাহিদা প্রায় ৮০-৯০ হাজার টন।
খাতুনগঞ্জের একজন আড়তদার বাংলানিউজকে বলেন, ছোলার সরবরাহের তুলনায় ক্রেতা কম। তবে নির্বাচনের বছর হওয়ায় রাজনীতিকদের ইফতার বিতরণ, করপোরেট প্রতিষ্ঠানের ইফতার বিতরণ এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায় শবেবরাতের পর থেকে প্রচুর ছোলা বিক্রি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ মে) অস্ট্রেলিয়ার প্রতিমণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) ছোলা ১ হাজার ৮৬০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা এবং মিয়ানমারের ছোলা প্রতি মণ ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৩২০ টাকা বিক্রি হয়েছে।

চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে অস্ট্রেলিয়ার নতুন চালানের প্রতিকেজি ছোলা মানভেদে ৬৪-৬৫ টাকা এবং মিয়ানমারের ছোলা ৬৬-৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া সাদা বড় দানার কাবলি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা কেজি।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস সূত্রে জানা গেছে, ছোলা আমদানিতে কর দিতে হয় না। বেশিরভাগ ছোলা বড় জাহাজে বহির্নোঙরে খোলা পণ্য (বাল্ক কার্গো) হিসেবে আসে। এরপর লাইটার (ছোট) জাহাজে নদীপথে দেশের বিভিন্ন নদীবন্দর ও ঘাটে খালাস করা হয়। সেখান থেকে ট্রাকে চলে যায় গুদাম বা আড়তে। কিছু ছোলা কনটেইনার শিপে এসেছে। সেগুলো খালাস হয়েছে বিভিন্ন আইসিডিতে। এবার প্রতিকেজি ছোলার বুকিং রেট ছিল দশমিক ৬৫ ডলার থেকে দশমিক ৭০ ডলার পর্যন্ত।
কাস্টম হাউস দিয়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে ছোলা আমদানি হয়েছিল ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৯৪ টন। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ে ছোলা আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭০১ টন। ১৬-১৭ অর্থবছরের ১২ মাসে ছোলা আমদানি হয়েছিল ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৭৩১ টন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১৭ হাজার ৪৯০ টন, ফেব্রুয়ারিতে ১৬ হাজার ৩৯ টন, মার্চে ৭২ হাজার ৬৫৪ টন এবং এপ্রিলে ৪৩ হাজার ৪২৭ টন ছোলা আমদানি হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। এখানেই শেষ নয়, মে মাসের প্রথম ১৫ দিনেও প্রচুর ছোলা খালাস হয়েছে। বেশ কিছু ছোলার চালান পাইপলাইনে রয়েছে।
Comments
Post a Comment