‘আমরা প্রাদেশিক সরকারব্যবস্থা করতে চাই। চট্টগ্রাম হবে উপ-দেশ।’

sharif-6-768x432.jpg

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, ‘আমরা প্রাদেশিক সরকারব্যবস্থা করতে চাই। চট্টগ্রাম উপ-দেশ হবে। কারো প্রতি চেয়ে থাকতে হবে না। আপনারা আপনাদের উন্নয়ন করবেন।’ ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণে ৭টি প্রদেশ করা হবে। চট্টগ্রামের নাম হবে ‘চট্টলা’। আপনারা না চাইলে ভিন্ন কথা। ১৬ কোটি মানুষকে একজন শাসন করবে, হতে পারে না। পৃথিবীর কোথাও এই শাসনব্যবস্থা নেই। নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার দাবি করে করে এরশাদ বলেন, এখন তো নির্বাচন হয় না। সিল মারা হয়। তা বন্ধ করতে হবে।


গতকাল বিকেলে লালদীঘির মাঠে সম্মিলিত জাতীয় জোটের মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন জাতীয় জোট ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।


এইচএম এরশাদ বলেন, অনেক ভাঙা-গড়ার মধ্যে দিয়ে জাতীয় পার্টি গড়ে ওঠেছে। আজকে মোমবাতি দেখে শক্তি সঞ্চায় করেছি। এবার আল্লাহ রহমতে এই শক্তি নিয়ে আগামীতে আমরা সরকার গঠন করবো। জনগণের কাছে দোয়া চেয়ে এরশাদ বলেন, মানুষের খেদমত করতে সর্বোপরি ইসলামের খেদমত করতে আল্লাহ যেন আমাকে তৌফিক দান করেন।


মুসলমান হিসেবে গর্বিত ও সৌভাগ্যবান বলে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, আমরা মহানবী (স.) এর উম্মত। এর চেয়ে বড় গর্ব আর কিছুই হতে পারে। মহানবী (স.) ছিলেন রহমতুল্লাহ আলামিন। আমরা তাঁর অনুসারী, তাঁর উম্মত। যিনি মিথ্যার ওপর সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। বৈষম্যের ওপর সাম্য প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। যারা অকল্যাণ করে, জুলুম করে তারা উম্মতে মুহাম্মদী হতে পারে না। আমার মুখ ও হাত থেকে যেন অন্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তাহলেই আমরা উম্মতে মুহাম্মদী হতে পারবো।


আমরা সংগ্রামে নেমেছি কেন ? এই প্রশ্ন তুলে এরশাদ বলেন, ‘মানুষকে মুক্তি দেওয়ার জন্য। ন্যায় বিচার, সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য।


আমাদের বলা হয় সন্ত্রাসী। সন্ত্রাসী বলতে ইসলামে কোনো কথা নেই। জিহাদ আছে। জিহাদ ফরজ করা হয়েছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করাকে জিহাদ বলে। আমরা সন্ত্রাসী নই। সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। ইরান, লিবিয়া, আফগানিস্তান ধ্বংস করেছে। এখন ইসলামকে ধ্বংস করেছে। নির্বিচারে বন্দী করে মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। তারা আমাদের শত্রু।


দেশে নির্মিত ফ্লাইওভার বড় মানুষের জন্য উল্লেখ করে এইচ এম এরশাদ বলেন, একজন রিক্সাওয়ালা তো ফ্লাইওভারে ওঠতে পারে না।


উন্নয়নের মহাসড়কে চলেছে মানুষ। কিন্তু উন্নয়নে এত খানা-খন্দ কেন, এত খাল-বিল কেন। টাকাগুলো গেল কোথায়। কার পকেটে গেল। দুর্নীতির মহাসড়কে হাবুডুবু খাচ্ছি আমরা। উদ্ধার করতে হবে। ১৬ কোটি মানুষকে উদ্ধার করতে হবে। আমরাই তাদের উদ্ধার করতে হবে।


জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ বলেন, উনি তো ১০ টাকা কেজিতে চাল খাওয়ানো কথা দিয়েছিলেন। সবার ঘরে ঘরে চাকরি দেবেন। এখন চালের দাম ৬০-৭০ টাকা। একজন রিক্সচালক, শ্রমিক দিনে ৩শ টাকা। এখন কি ৬০-৭০ টাকায় চাল কিনে খাওয়া তার পক্ষে কি সম্ভব। তারা সুখে আছেন। যারা ঢাকায় থাকেন। ঢাকার বাইরের অবস্থা দেখেন না তারা। ঢাকা নিয়ে ব্যস্ত। কাজ নেই। দেশে সরকারি হিসাবে বেকার ৪ কোটি ৮৬ লাখ। তারা সমাজ ও সংসারের বোঝা। তারা মাদকের আশ্রয় নেয়। চায়ের দোকানের ইয়াবা পাওয়া যায়। আমার সময় তো ইয়াবা ছিল না। কেন এই অবস্থা। কেন এই অবক্ষয়।


১৪ বছর বয়স হলে মা-বাবা অস্থির থাকে। কখন তার মেয়ে ধর্ষিত হয়। স্কুলে গিয়ে ঘরে ফিরে আসতে পারবে কিনা। রাস্তায় ধর্ষিত হয়, তার মৃতদেহ পাওয়া যায় ধান ক্ষেতে। এই সমাজে মানুষ বাস করবে কি করে। মানুষ পরিবর্তন চায়।


এরশাদ বলেন, ঋণ খেলাপি, ব্যাংক খেলাপি। ব্যাংকে টাকা নেই। টাকাগুলো কার পকেটে গেছে। তাদের বিচার কেন করা হচ্ছে না। অথচ কৃষকের ঋণ নেই। ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে জেলে যেতে হয়। যারা কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে তাদের কি হবে। তাদের কেন বিচার হয় না। গবির লোকদের ৫ টাকা পরিশোধ না করলে তার ঘর বাড়ি উচ্ছেদ করা হয়। এই হল বিচার। এভাবে মানুষ বাঁচতে পারে না। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। মানুষ সরকার পরিবর্তন চায়।


শেয়ার বাজার ধ্বংস। বাংলাদেশ ব্যাংক লুট করা হয়েছে। যা পৃথিবীর কোথাও হয় না। আমাদের দেশে হয়েছে। ৫০০ কোটি টাকা নিয়ে গেল। নাম জানতে পারলাম না। আপনারা জড়িত আছে। আমরা জানি তারা কে। তারা প্রকাশ করবে না।


আমাকে বলা হয় স্বৈরাচার। একটি মানুষও মরে নাই, হাতে রক্ত নাই। এখন আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে স্বৈরাচার রাষ্ট্র বলেছে। এখন কি বলবেন। লজ্জায় মুখ ঢাকবেন না। লজ্জা তো নেই। সে এখনো বড় বক্তৃতা দেন। আমরা স্বৈরাচার নই। দুর্নীতিতে ৫ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দুই সরকার।


দেশের মানুষের নিরাপত্তা নেই উল্লেখ করে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, মানুষ নেই, নেই। মানুষকে ঘুম-খুন করা হচ্ছে। কেউ বলতে পারে না। আবার কয়েকদিন পর ধান ক্ষেতে লাশ পাওয়া যায়। একমাত্র আল্লাহ জানে আর প্রধানমন্ত্রী জানে। আর কেউ জানে না।


ইসলামী ফ্রন্টের মোমবাতি প্রতীকের বিষয়ে তিনি বলেন, দুই শক্তি এক হলে অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে কেউ আটকাতে পারবে না। আমরা এগিয়ে যাবো। সরকার পরিবর্তন করবো। ক্ষমতায় যাবো।


জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াস সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে চট্টগ্রাম-৯ (বাকলিয়া- কোতোয়ালী) আসনের আগামী নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করে জাপা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ বলেন, বাবলু আমার ছেলে ছিল। এখনো আমার ভাগ্নে জামাই। তিনি তো ভাল কাজ করেন। দ্বিতীয়বার ভোট দিয়ে তাকে এমপি করতে হবে। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব এম এ মতিনকে বাবলুর জন্য আগামী নির্বাচনে একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি।


নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার দাবি করে এরশাদ বলেন, এখন তো নির্বাচন হয় না। সিল মারা নির্বাচন হয়। সিল মারা বন্ধ করতে শক্তি অর্জন করতে হবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে লোক থাকতে হবে। নির্বাচনে করে ক্ষমতায় আসতে হবে।


আল্লাহ-ই জানে কালকে আবার জেলে যেতে হয় কিনা। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা পচে গেছে। শিক্ষা বলতে কিছুই নেই। জিপিএ-৫। নিজের নাম লিখতে পারে না। আগে পাস করা কঠিন ছিল। এখন ফেল করা কঠিন। সবাই পাস করে। না করে শিক্ষামন্ত্রীর চাকরি থাকবে না। এই শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে পারব না।


জাতীয় পার্টির ক্ষমতাকালে চট্টগ্রামের উন্নয়নের বিষয়ে এরশাদ বলেন, আমরা ক্ষমতায় থাকতে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ, চা বোড, শিপিং করপোরেশনের প্রধান কার্যালয়, দ্বিতীয় কর্ণফুলী সেতু, রাউজানে বিদ্যুৎকেন্দ্র, কাফকো, সিইউএফএল করেছিলাম। চট্টগ্রামকে দ্বিতীয় রাজধানী করার চেষ্টা করেছিলাম। চট্টগ্রামের মানুষ আল্লাহকে ভালবাসে। আমরা আল্লাহকে চাই। দোয়া চাই। যতদিন বেঁচে থাকি মানুষের খেদমত করতে চাই। আপনারা যদি সঙ্গে থাকেন, আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে আবারও সরকার গঠন করে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবো।


সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান আল্লামা এম এ মান্নান। বক্তব্য রাখবেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমীন হাওলাদার, বন ও পরিবেশমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি, ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব এম এ মতিন, ইসলামী ফ্রন্টের মহাসমাবেশের সমন্বয়ক মাওলানা আবদুস সামাদ, আবু সুফিয়ান আবেদী আলকাদেরী, সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম, সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, জাতীয় পার্টির সুনীল শুভরায়, জাপার এম এ ওয়াহিদ ফারুক, মো. ইলিয়াছ এমপি, বিএনএ’র চেয়ারম্যান সেকান্দর আলী মনি, দক্ষিণ জেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক নুরুচ্ছফা সরকার, অধ্যাপক মাসুদা এম রশিদ এমপি, উত্তর জেলা জাপার সিনিয়র সহ-সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন আকবর, দিদারুল কবির চৌধুরী, ইসলামী ফ্রন্টের প্রেসিডিয়াম সদস্য গাজী এম এ ওয়াহিদ সাবুরী, সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সামশুল আলম মাস্টার, মাহজাবীন মোরশেদ এমপি, নগর জাপার সামশুল আলম দুলাল, ইসলামী ফ্রন্টের হারুনুর রশিদ রেজভী প্রমুখ।

Comments

LMP - Last Month Popular

প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং| শীর্ষে ব্র্যাক, নর্থ সাউথ ও আইইউবি

ফোরজি সেবা পেতে জানতে হবে তিনটি তথ্য

সামনের সপ্তাহেই পুত্রকে সরাসরি সিংহাসনে বসাবেন বাদশাহ সালমান!