তিস্তার পথে বাসদের রোডমার্চ

পানির ন্যায্য হিস্যা ও তিস্তা চুক্তির দাবিতে এবং আগ্রাসী পানি নীতির প্রতিবাদে ঢাকা থেকে তিস্তা অভিমুখে রোডমার্চ শুরু করেছে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে তিন দিনব্যাপী এই রোডমার্চ শুরু হয়। বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান রোডমার্চের উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। বক্তারা বলেন, নদীকেন্দ্রিক সেচ ব্যবস্থায় গড়ে ওঠা কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশ পানির অভাবে আজ হুমকির মুখে পড়েছে। ভারতের আগ্রাসী পানি নীতির কারণে শুস্ক মৌসুমের আগেই পানিপ্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশ আজ মরুকরণের দিকে ধাবিত হচ্ছে। দখল-দূষণে ১ হাজার ২০০ নদী কমে গিয়ে ২৩০-এ নেমে এসেছে। ব্যাহত হচ্ছে সেচ ব্যবস্থা। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় বিকল্প সেচ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হয়ে আর্সেনিকের মাত্রা বাড়ছে। তারা বলেন, শুধু তিস্তার পানিই সমস্যা নয়, ভারতের সঙ্গে অভিন্ন ৫৪ নদীসহ ৫৭টি আন্তর্জাতিক নদীর পানি বণ্টনের সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে এবং অভিন্ন নদীর পানি সমন্ন্ব্বিত ব্যবস্থাপনা ব্যবহার উন্নয়ন রক্ষা করা এবং এ-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য অববাহিকা কর্তৃপক্ষ গঠন করা প্রয়োজন। বক্তারা আরও বলেন, সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে তিস্তা চুক্তির বিষয়ে রাজি করানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু আমরা মনে করি, তিস্তা চুক্তি হবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে। এক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা প্রধান নিয়ামক হতে পারে না। মূলত মমতার অজুহাত দিয়ে তিস্তা চুক্তি ঝুলিয়ে রেখে অন্যান্য স্বার্থ হাসিলের ষড়যন্ত্র করছে ভারত। নীতিমালা লঙ্ঘন করে বাংলাদেশের স্বার্থ বিবেচনায় না নিয়ে সব আন্তর্জাতিক নদী থেকে পানি প্রত্যাহার করছে, যা আমাদের কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ সমাজকে ধ্বংসের পাশাপাশি জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে নিম্নমুখী করছে। প্রথম দিন শনিবার সিরাজগঞ্জ হয়ে বগুড়ায়, রোববার গাইবান্ধা হয়ে রংপুরে রাতযাপন করে সোমবার জলঢাকায় তিস্তা ব্যারাজে এ রোডমার্চ শেষ হবে।
Comments
Post a Comment