বিএনপি জোটের শূন্যস্থান পূরণ করবে সম্মিলিত জাতীয় জোট !

বিএনপি নির্বাচনে না এলে জাপা ও এরশাদের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোট প্রস্তুত। ভাবে ভাষায় এমনটাই জানান দিচ্ছেন এরশাদ জাপার শীর্ষ নেতারা। এরশাদ ক্ষুদ্র ইসলামী দলগুলোর কয়েকটি নিয়ে সম্প্রতি গঠন করেছেন সম্মিলিত জাতীয় জোট। এতে আছে ইসলামী ফ্রন্টের মান্নান–মতিন গ্রুপ ও আরো অখ্যাত ২০/২২টি দল। এজোট বিএনপির আদলে গড়া বিরোধী জোট। আগামী নির্বাচনে বিএনপি নিয়ে শূন্যতা সৃষ্টি হলে এ জোটই হবে শূন্যস্থান পূরণের জোট। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এগুচ্ছেন এরশাদ।
গতকাল লালদীঘি মাঠে জাতীয় পার্টি ও ইসলামী ফ্রন্টের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। এতে সরকারের বিরুদ্ধে সরকারের ভেতরে থাকা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান তোলেন নানা অভিযোগ। বলেন সব এখন একজনের কথায় চলছে। বাংলাদেশের মতো ব্যাংক ডাকাতি আর কোথাও হয়নি। সরকার চালায় এখন শুধু একজন। আমরা একক সরকার চাই না। এখন নির্বাচন হয় না, সীল মারা হয়। বলেন নির্বাচন কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। প্রস্তুত থাকতে হবে, দেশকে উদ্ধার করতে হবে। পরিবর্তন করতে হবে দেশকে।
বিশ্লেষকদের মতে এরশাদের এ বক্তব্য একইসাথে রাজনৈতিক যোগাযোগ ও নির্বাচনী প্রচারণার অংশ। সরকারের সাথে থেকে সরকারের কড়া সমালোচনা, নির্বাচনী প্রতারণার অভিযোগ, ইসলামী কয়েকটি দল নিয়ে জোট গঠন–এসব কিছুই শূন্যতায় শূন্যস্থান পূরণের প্রস্তুতি। বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অভিযোগ সরকার বিএনপিকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে চায়। তারা মনে করেন বেগম জিয়ার কারাদণ্ড, ধরপাকড়, বিএনপি নেতাকর্মীদের দাঁড়াতেই না দেয়া সব কিছুতেই লুকায়িত রয়েছে কৌশল। পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যাবে বিএনপির জন্য। বিএনপির ধারণা সরকারই চায় না বিএনপি নির্বাচনে আসুক।
মূলত বিএনপি এখন কারাঅন্তরীণ খালেদায় ব্যস্ত। শীর্ষ নেতারাও মামলা ও দুদকের তদন্তে ক্লান্ত প্রায়। নির্বাচন এগিয়ে আসছে। বিএনপির প্রস্তুতিও তেমন দৃশ্যমান নয়।
বরং নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্নস্থানে সভা সমাবেশে ভোট চাইছেন। মন্ত্রী এমপিরা পাচ্ছেন বিশেষ নির্বাচনী বরাদ্দও। জাতীয় পার্টিও একই আবহে। নির্বাচনী আমেজে প্রচারণায় ব্যস্ত। ভোট চাওয়া জোট গড়া মূলতই বিএনপি জোটের আদলে তৈরি হওয়া এবং জানান দেওয়া যে, বিএনপি জোটের শূন্যতা তৈরি হলে এরশাদের জোটে তা পূরণ হবে। এমনটি মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
Comments
Post a Comment