কাল পলোগ্রাউন্ডে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা শুরু| চিটাগাং চেম্বারের অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ
বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্র নির্মাণে সফলতার পর চিটাগাং চেম্বার এবার নিজস্ব বিনিয়োগে অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ ( বেজা )’র অনুরূপ সুবিধাও দেবে চেম্বার।
২৬তম চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (সিআইটিএফ)-২০১৮ উপলক্ষে গতকাল বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করেন চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম। মেলা শুরু হবে আগামীকাল থেকে রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠে। চেম্বার সভাপতি জানান, গত বোর্ডসভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার ব্যাপারে। অতিরিক্ত সাধারণ সভা ডেকে সবার মতামত নিয়ে তা চূড়ান্ত করা হবে। অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য সম্ভাব্য এলাকাগুলোতে ৭০ একর থেকে ১০০ একর জায়গা সন্ধান করা হচ্ছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য এখানে প্লট বরাদ্দ দেয়া হবে কমমূল্যে। এ ধরনের শিল্পে কর্মসংস্থান হয় অধিক। মাহবুবুল আলম বলেন, ১১৫ বছরের পুরনো চিটাগাং চেম্বার। আমরা সবসময় নতুন কিছু করতে চাই। তারই ধারাবাহিকতায় অর্থনৈতিক অঞ্চল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চেম্বার সভাপতি
এক প্রশ্নের উত্তরে জানান যে, বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রে যে ফাইভস্টার হোটেল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে তাতে খুব বেশি অগ্রগতি নেই। চট্টগ্রামে বর্তমানে যে হোটেলটি আছে সেটার অবস্থা খুব বেশি ভাল নয়। চট্টগ্রামে আরও ৩টি নির্মিত হচ্ছে। এসব বিবেচনায় রেখে দু’টি চেইন হোটেল অংশীদার হিসেবে চায় চেম্বারকেও। কিন্তু আমরা তাতে রাজি নই। আমরা কেবল অবকাঠামো তৈরি করে দেব, অংশীদার হবো না। হোটেল রিজেন্সি হায়াত এবং লা-মেরিডিয়ান-এর সাথে চেম্বারের এ বিষয়ে যোগাযোগ চলমান রয়েছে বলে জানান মাহবুবুল আলম।
মাহবুবুল আলম বলেন, বাংলাদেশে দুটি বড় বাণিজ্যমেলা হয়। সরকারিভাবে ঢাকায় বাণিজ্যমেলা অনুষ্ঠিত হলেও বেসরকারিভাবে সবচেয়ে বড় বাণিজ্য মেলার আয়োজন করে চিটাগাং চেম্বার। মেলায় দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। বাংলাদেশ উৎপাদিত পণ্যের প্রচার ও প্রসারই মেলার উদ্দেশ্য।
আগামীকাল বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্রে মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান প্রধান অতিথি থাকবেন। বিশেষ অতিথি থাকবেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও খনিজসম্পদ, নৌ-পরিবহন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এমএ লতিফ এমপি এবং এফবিসিসিআই’র ১ম সহ-সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম। রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠে এ মেলা প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে। দর্শনার্থীদের জন্য টিকেটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা।
মেলা কমিটির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ জামাল আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যে মেলার যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। চার লাখ বর্গফুটের অধিক জায়গাজুড়ে আয়োজিত মেলায় এবার ১৭টি প্রিমিয়ার গোল্ড প্যাভিলিয়ন, ৪টি মিনি মেগা প্যাভিলিয়ন, ১১টি প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন, ৮টি স্ট্যান্ডার্ড প্যাভিলিয়ন, ১৭২টি প্রিমিয়ার মেগা স্টল, ২৩টি মেগা স্টল, ১৪টি প্রিমিয়ার গোল্ড স্টল, ১৩ টি প্রিমিয়ার স্টল, ১৪টি স্ট্যান্ডার্ড স্টল, তিনটি রেস্টুরেন্টসহ ৪৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে এই মেলায়। এবারও থাইল্যান্ড মেলার পার্টনার কান্ট্রি হিসেবে গ্রহণ করছে।
Comments
Post a Comment