বালাত গ্রামে একাত্তরের স্মৃতিচারণে আবেগতাড়িত রাষ্ট্রপতি

r-1-b-20180310053904.jpgসোলার সামিটে যোগ দিতে ভারতে চারদিনের সফরে রয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। শুক্রবার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত কাছাকাছি পূর্ব খাসি পার্বত্য জেলার ছোট্ট গ্রাম বালাত সফর করেন তিনি। এই গ্রামে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তার অবস্থানের স্মৃতিচারণ করে তিনি আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন।


দীর্ঘ ৪৭ বছর পর তার এই সফর সফরে তিনি স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ভারতের মেঘালয় ও আসাম রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার স্মৃতিচারণ করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্সের (মুজিব বাহিনী) একজন সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।


rতিনি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গুঘাট, মৈলাম ও বালাতে আশ্রয় নেয়া বাংলাদেশি যুবকদের তৎকালীন পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তি সংগ্রামের চেতনায় সংগঠিত করেছিলেন।


শুক্রবার বিকেলে বালাত গ্রামে তাকে অভ্যর্থনা জানাতে আসা লোকদের আবদুল হামিদ বলেন, ‘আজ আমার এখানে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের দিনগুলোর কথা মনে পড়ছে। এখানে আসতে আমার অনেক দেরি হয়ে গেল... কিন্তু স্মৃতি আজও আমাকে আবেগতাড়িত করে তুলে।’


r3রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘আমি মেঘালয়ের টেকেরহাট, গুমাঘাট, পানছড়া ও মৈলাম হয়ে বালাত পৌঁছেছিলাম। এখানে আমি ইয়ুথ রিসেপশন ক্যাম্প স্থাপন করি, যার সদস্যরা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়জুড়ে আমি দায়িত্ব পালন করি।’


তিনি বলেন, ‘আর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর আমি বাঙালি শরণার্থীদের দেশে ফিরে যেতে উদ্বুদ্ধ করি। বেশ কয়েক ব্যাচ শরণার্থী দেশে ফেরার পর অবশেষে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি আমি নতুন স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে যাই। সেদিন ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। আমি আজও সেই গৌরবময় দিনগুলোর কথা সানন্দে স্মরণ করি।’


রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠিক এই জায়গাতেই তারা যুব মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করেছিলেন এবং সিনিয়র রাজনীতিবিদ ও সংগঠকদের সঙ্গে যুদ্ধ কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। পরে ১৯৭১ সালের এপ্রিল নাগাদ আরও জনগণকে সংগঠিত করতে বাংলাদেশে ফিরে যাই এবং আবার ভারতে প্রবেশ করি।


r4এ সফর নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, সুদীর্ঘদিন পরে হলেও আমি যথাযথভাবে আমার দায়িত্ব পালন করলাম।’


এ দিনটিতে তার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় দিন উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমাদের অনেকেই ইহকাল ছেড়ে গেছেন কিন্তু আমি যথাযথ শ্রদ্ধার সঙ্গে তাদের ত্যাগ-তীতিক্ষার কথা স্মরণ করছি। তিনি বলেন, ‘সেই দুর্দিনে যারা আমার পাশে ছিলেন, আমি তাদের কখনোই ভুলব না।’


যুদ্ধের সময় তিনি যে ঘরটিতে থাকতেন সেই ঘরটিও পরিদর্শন করেন রাষ্ট্রপতি। তার পত্নী রাশিদা খানমও ওই ঘরে দেড় মাস তার সঙ্গে ছিলেন।


রাষ্ট্রপতি হামিদের সঙ্গে মারাখ (৭৫) ও রজত (৭৮) নামে দুই ব্যক্তির সাক্ষাৎ হয়, যারা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাকামী বাংলাদেশিদের খুবই কাছে ছিলেন। দেশপ্রেমিক ও মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রপতিকে তাদের মাঝে পেয়ে এই দুই প্রৌঢ় অত্যন্ত আবেগ আক্রান্ত হয়ে পড়েন।


r2রাষ্ট্রপতি সেইসব চা দোকান ও স্থানীয় বাজারও পরিদর্শন করেন, যেখানে তারা সেইসময় স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্ষে প্রচারণা শুরু করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় যখন লাখ লাখ বাংলাদেশি দু’দেশের সীমান্ত দিয়ে এই ভূখণ্ডে আশ্রয় নিয়েছিল তখন ভারত সরকার ও এর জনগণের আন্তরিক অবদান ও সমর্থনের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা দুঃসময়ে সর্বোচ্চ আতিয়থেয়তার জন্য ভারতের জনগণের কাছে কৃতজ্ঞ।’


১১ মার্চ নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ‘ফাউন্ডিং কনফারেন্স অব দ্য ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স (আইএসএ) ও সোলার সামিট-২০১৮-তে যোগ দিতে চার দিনের এই সফরে ভারত গেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। তার দেশে ফেরার কথা আগামী ১২ মার্চ।

Comments

LMP - Last Month Popular

প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং| শীর্ষে ব্র্যাক, নর্থ সাউথ ও আইইউবি

ফোরজি সেবা পেতে জানতে হবে তিনটি তথ্য

সামনের সপ্তাহেই পুত্রকে সরাসরি সিংহাসনে বসাবেন বাদশাহ সালমান!