রোহিঙ্গাদের ‘জাতিগত নিধন’ হতে দিয়েছেন সু চি: হলোকাস্ট জাদুঘর
যুক্তরাষ্ট্রের হলোকাস্ট মেমোরিয়াল জাদুঘর এক চিঠিতে বলেছে, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধনযজ্ঞ চলতে দিয়েছেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি। নিজেদের দেওয়া একটি পুরস্কার বাতিলের খবর জানিয়ে তাকে লেখা এক চিঠিতে ওই মন্তব্য করেছে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসী বাহিনীর হলোকাস্ট আক্রমণ থেকে বেঁচে যাওয়া এলি উইজেলের নামানুসারে তাকে ২০১২ সালে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। নিজ দেশের সামরিক স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই চালানোয় ‘এলি উইজেল এওয়ার্ড’ নামের পেয়েছিলেন সু চি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য হিল এই খবর নিশ্চিত করেছে।

গত বছরের আগস্টে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রাখাইনে পূর্ব পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ ওই অভিযানকে জাতিগত নিধনযজ্ঞ বলে আখ্যা দিয়েছে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গা নিপীড়নের যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। সেনা অভিযানের বিষয়ে নিরব থাকায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনার মুখে পড়েন দেশটির ডি ফ্যাক্টো সরকারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নেত্রী অং সান সু চি। ওই নিরবতার অভিযোগে এরই মধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংগঠন তাকে দেওয়া সম্মাননা বাতিল করেছে। এই তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হলো হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়াম।
হলোকাস্ট মেমোরিয়াল জাদুঘর পক্ষে সু চিকে ওই চিঠি লিখেছেন এর পরিচালক সারা জে ব্লুমফিল্ড। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘকে সহায়তা করতে প্রত্যাখান করা ও সাংবাদিকদের বাধা দিয়ে রোহিঙ্গাদের ওই জাতিগত নিধনযজ্ঞ চলতে দিয়েছেন সু চি।
চিঠিতে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ লিখেছে, ‘মানবিক মর্যাদা ও বৈশ্বিক মানবাধিকারের প্রতি আপনার সম্মানকে শ্রদ্ধা জানানো মানুষের অংশ হিসেবে আমরা আশা করি, আপনি সেনাবাহিনীর নৃশংস অভিযানের নিন্দা জানিয়ে তা বন্ধ করবেন আর আক্রমণের শিকার হওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করবেন।’
রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় স্বীকার করে না মিয়ানমার। তাদের বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বকেও অস্বীকার করে থাকে মিয়ানমার।
হলোকাস্ট জাদুঘর কর্তৃপক্ষ তাদের চিঠিতে লিখেছে, ‘রোহিঙ্গাদের ওপরে অপরাধ চালাতে কলকাঠি নাড়ছে সেনাবাহিনী। সাম্প্রতিক মাসগুলোর নিষ্ঠুর নৃশংসতা পরিস্থিতি বর্ণনায় আপনার নৈতিক কর্তৃত্বের ব্যবহারের দাবি জানায়।’
রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ ভাষা প্রচারের জন্যও সু চিকে অভিযুক্ত করেছে ওই জাদুঘর কর্তৃপক্ষ। এলি উইজেলের একটি বাণী উদ্ধৃত করে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সু চিকে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ওই চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘নিরপেক্ষতা আক্রমণকারীদের প্রশ্রয় দেয়, তাদের শিকার হওয়াদের নয়। নিরবতা পীড়নকারীকেই সাহস যোগায়, পীড়িতকে নয়।’
Comments
Post a Comment