চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) মেগা প্রকল্পের জিও ও অর্থ ছাড় আজ
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) গৃহীত মেগাপ্রকল্পের আওতায় বর্ষার আগেই খনন করা হবে নগরীর ১৬ খাল। আজ মঙ্গলবার প্রকল্পটির কাজ শুরুর জি ও (গভর্নমেন্ট অর্ডার) পাওয়া যাবে। একইসঙ্গে আজ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় আরইডি (অর্থ বরাদ্দ সংক্রানত্ম)মিটিংয়ে প্রকল্পটির বিপরীতে অর্থ ছাড় দেয়ার কথা রয়েছে। এর আগে সংশোধন শেষে গত ১ মার্চ প্রকল্পটির চূড়ানত্ম অনুমোদন দেয় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। জিও পেলে আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে এমওইউ (সমাঝোতা স্মারক) করবে সিডিএ। এরপর সেনাবাহিনী কাজ শুরু করবে। সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বিষয়টি দৈনিক আজাদীকে নিশ্চিত করেছেন।
জলাবদ্ধতা নিরসনে গত অর্থ বছরে (২০১৬–২০১৭) নগরীর বিভিন্ন খাল, ড্রেন, নালা ও ছড়া থেকে ২ ল ৮১ হাজার ঘন মিটার মাটি উত্তোলনে ২৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা খরচ করেছিল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। তবুও ঘন্টার পর ঘন্টা শহরের গুরুত্বপূর্ণ অনেক এলাকা তলিয়ে ছিল পানির নিচে। বিশেষ করে এপ্রিল মে জুন এবং জুলাই মাসে অনত্মত ১০ দিন তীব্র জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছিলেন নগরবাসী। যা ওই সময়ে আনত্মর্জাতিক গণমাধ্যমেও স্থান পায়। এমন পরিস্থিতিতে, গত বছরের (২০১৭) ৯ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির(্একনেক) সভায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের গৃহীত ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন,সম্প্রসারণ. সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি মেগা প্রকল্পের অনুমোদন পায়। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৬শ ১৬ কোটি ৪৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। কিন্তু একনেকে অনুমোদনের ৭ মাস পরেও কাজ শুরু না হওয়ায় কিছুটা হতাশা দেখা দেয় নগরবাসীর মধ্যে। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি কর্পোরেশন তাদের কার্যক্রম চলমান রাখবে কি না সেই প্রশ্ন উত্থাপনের পর তৈরি হয় শঙ্কা।
জানা গেছে, সিডিএর মেগাপ্রকল্প নিয়ে গঠিত টেকনিক্যাল কমিটির চূড়ানত্ম সভা হয়েছিল গত ১৫ জানুয়ারি। সভার সিদ্ধানত্মগুলো রেজুলেশন আকারে সিডিএ জানতে পারে ৬ ফেব্রুয়ারি। জলাবদ্ধতা চট্টগ্রামের প্রধান সমস্যা হওয়ায় আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে দৃশ্যমান কিছু কাজ করার সিদ্ধানত্ম হয় । দৃশ্যমান কাজ বলতে প্রকল্পভুক্ত খাল খনন, মাটি উত্তোলন, খাল পরিষ্কার, ড্রেন পরিষ্কার এবং খাল সংস্কারের যে কাজগুলো আছে সেগুলো। অর্থাৎ কাজগুলো দ্রুত করতে হবে।
সভার সিদ্ধানত্ম অনুযায়ী, সিডিএ কাজ শুরু করার ঘোষণা দেয়ার পর চসিকের প্রকৌশল বিভাগ তাদের কাজ চলমান রাখবে কী না তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন। কারণ চলমান রাখলেও সিডিএ কাজ শুরু করার পর ‘ওভারলেপিং’ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আবার সিডিএ’র প্রকল্পে সংস্কার কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্ধ আছে, যা কর্পোরেশনের নেই। তাই কর্পোরেশন কাজ অব্যাহত রাখলে অর্থ সংস্থান কীভাবে হবে সেটা নিয়েও সংস্থাটির কর্মকর্তাদের প্রশ্ন আছে। তাই সিডিএকে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি একটি চিঠি দিয়েছিল চসিক। ওই পত্রে আগামী বর্ষাকে সামনে রেখে চসিকের চলমান খাল খনন কার্যক্রম ‘বন্ধ’ করা হবে কী না তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। একইসঙ্গে খনন কার্যক্রম চলমান রাখলে সিডিএ’র প্রকল্পের আওতায় তার ব্যয় ‘পরিশোধ’ করা হবে কী না সেটাও জানতে চাওয়া হয় ওই পত্রে।’ এছাড়া গত ৪ মার্চ স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকেও একটি চিঠি দেন স্বয়ং মেয়র। সেখানেও তিনি চসিকের চলমান কাজ বিষয়ে সিদ্ধানত্ম চান। এর আগে ১৯ ফ্রেব্রশুয়ারিও একটি চিঠি দেয়া হয়েছিল একই মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে।
এ প্রসঙ্গে চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘একটি কাজ দুটো প্রতিষ্ঠান করলে ওভালেপিং হবে। তাই মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছি। যেহেতু মন্ত্রণালয় অথরিটি তাই না জানালে তারা আবার প্রশ্ন করতে পারেন,একটি প্রকল্প (সিডিএর মেগা প্রকল্প) অনুমোদনের পরেও কেন কাজ করেছি? তিনি বলেন, আমরা এখন মাটি উত্তোলন করছি। আবার সেখানে একটি প্রকল্প ধরা আছে। আমাদের অর্থও ব্যয় হচ্ছে। যদিও আমাদের জন্য আলাদা কোন অর্থ বরাদ্দ নেই। তবু নগরবাসীর অসুবিধার কথা বিবেচনা করে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন,ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকল্পের কাজ শুরুর কথা বলেছিল সিডিএ। মাস তো শেষ, তবু কাজ শুরু না করার বিষয়টি তারা বলতে পারবেন।’
এদিকে সিডিএ চেয়ারম্যান ঘোষণা দেয়ার পর পার হয়েছে একমাস। কিনত্মু এখনো প্রকল্পের কাজ শুরু হয় নি। ফলে নগরবাসীর মধ্যে সন্দেহের দানা বাধে আগামী বর্ষার আগে প্রকল্পের কাজ শুরু নিয়ে। এরপ্রেক্ষিতে গত ৩ মার্চ ‘বাণিজ্যিক রাজধানী বাসত্মবায়ন পর্ষদ’ নামে একটি সংগঠনের নেতারা সাবেক ও বর্তমান কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তারা ‘সিডিএ ও চসিকের টানাপড়েনে আগামী বর্ষায় জলাবদ্ধতার আশংকা করেন। সেখানে তারা অভিযোগ করেন, বর্ষাকে সামনে রেখে চসিক নালা–নর্দমা পরিষ্কার থেকে এক ধরনের বিরত রয়েছে। এদিকে গত ৪ মার্চ সিডিএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকে করেন ‘নাগরিক উদ্যোগ’ নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ সিডিএর প্রকল্প দ্রশুত বাসত্মবায়নের পরামর্শ দেন।
সিডিএ চেয়ারম্যানের বক্তব্য :
মেগা প্রকল্পের অগগ্রগতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম দৈনিক আজাদীকে বলেন, বর্ষার আগেই ১৬ টি খাল খনন কাজ করার সিদ্ধানত্ম নিয়েছি। এই খালগুলোভুক্ত এলাকায় যেসব ড্রেন আছে সেগুলোও আমরা পরিষ্কার করবো। খালগুলো খনন করতে পারলে আগ্রাবাদ সিডিএ এলাকা,হালিশহর, চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ, চকবাজার, দেওয়ানবাজার, বাকলিয়া এবং চাক্তাইসহ সংশিহ্মষ্ট এলাকার জলাবদ্ধতা কমে আসবে এবং কিছুটা হলেও কষ্ট থেকে মুক্তি পাবেন ওই এলাকার লোকজন।
কবে নাগাদ খাল খনন কাজ শুরু হবে এ প্রসঙ্গে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের সব কাজ রেডি। এখন বাকি আছে সেনাবাহিনীর সঙ্গে এমওইউ (সমাঝোতা স্মারক)। জি.ও (গর্ভমেন্ট অর্ডার) না পাওয়ায় এম এমওইউ করা যায় নি। তবে আগামীকাল (আজ মঙ্গলবার) জি.ও পেয়ে যাব। এছাড়া আগামীকাল (আজ) মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আরইডি (প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ সংক্রানত্ম) মিটিং হবে। আশা করছি আমরা বরাদ্দ পেয়ে যাব। ইতোমধ্যে আমরা বরাদ্দপত্র পাঠিয়েছি। কাল (আজ) যদি জি.ও এবং বরাদ্দ পেয়ে যাই তাহলে সেনাবাহিনীর সঙ্গে এই সপ্তাহ বা আগামী সপ্তাহে এমওইউ সম্পন্ন করবো। এরপর কাজ শুরু করতে আর কোন বাধা নেই। সেনাবাহিনীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারা প্রসত্মুত। তারা কাজ শুরু করতে এক মুহূর্তও দেরি করবে না। আমরাও রেডি। ইতোমধ্যে ৫৭ খালের সর্াভে করে ফেলেছি এবং ১৬ খালও নির্ধারণ করে ফেলেছি। যে কাজ করতে ৬ মাস লাগতো সেগুলো আমরা ইতোমধ্যেই শেষ করেছি। জনগণের সহযোগিতায় কাজ শুরু হলে মানুষ সুফল পাবেন। আমি জনগণের সহযোগিতা চাই।
প্রকল্প অনুমোদনের পর কাজ শুরু করতে দীর্ঘ সূত্রিতা প্রসঙ্গে আবদুচ ছালাম বলেন, প্রকল্পের ভুল–ত্রুটি,সংযোজন–বিয়োজন করতে গঠিত টেকনিক্যাল কমিটির চূড়ানত্ম মিটিং হয়েছে গত ১৫ জানুয়ারি। আমরা রেজুলেশন পেয়েছি ৬ ফেব্রুয়ারি। এরপর আমরা সিদ্ধানত্মগুলো প্রকল্পে ইনক্লুড করে আমাদের মন্ত্রণালয়ে সাবমিট করেছি এবং সেখানে অনুমোদন হয়। পরবর্তীতে গত ১ মার্চ বৃহষ্পতিবার বিকেলে প্ল্যানিং কমিশনেও অনুমোদন পায়। এরপর রোববার সকালে একনেক দপ্তরে পাঠিয়েছি জি.ও (গর্ভমেন্ট অর্ডার) নেয়ার জন্য। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আসলে প্রকল্পটি আমরা অনুমোদন পেয়েছিলাম শর্ত সাপেক্ষে । শর্ত ছিল, প্রকল্পের কাঠামোগত (স্ট্রাকচারাল) কাজগুলো পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের পরই সম্পাদন করতে হবে। শর্তসাপেক্ষে প্রকল্পে অপ্রয়োজনীয় কিছু অনত্মর্ভুক্ত হয়েছে কি না, প্রয়োজনীয় কিছু বাদ পড়ছে কি না সেগুলো দেখার জন্য এলজিইডি মন্ত্রীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। এরপর তিনি একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করেছিলেন,এতে তিনজন মন্ত্রী ছিলেন। এই টেকনিক্যাল কমিটি আবার একটি সাব–কমিটি গঠন করে। সাব কমিটি তিন–চারটা মিটিং করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে লেখা ছিল, ৩৬ খালের জায়গায় ৫৭ খাল করলে ভাল হবে। আমরা খালের একপাশে রাসত্মা করার কথা বলেছিলাম, তারা (সাব কমিট) বলেছে দুই পাশে হলে ভাল হবে। এই প্রতিবেদন পাওয়ার পর ২০১৭ সালের ১৫ জানুয়ারি মন্ত্রী মহোদয়ের সভাপতিত্বে চূড়ানত্ম মিটিং হয়। মিটিংয়ে জলাবদ্ধতা চট্টগ্রামের প্রধান সমস্যা হওয়ায় আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে দৃশ্যমান কিছু কাজ করার সিদ্ধানত্ম হয়। দৃশ্যমান কাজ বলতে আমাদের প্রকল্পে খাল খনন, মাটি উত্তোলন, খাল পরিষ্কার, ড্রেন পরিষ্কার এবং খাল সংস্কারের যে কাজগুলো আছে সেগুলো। অর্থাৎ কাজগুলো দ্রুত করতে হবে। প্রকল্পভুক্ত ৫টি ুইসগেটের কাজও দ্রুত শুরু করতে হবে। পাশাপাশি পরামর্শক নিয়োগ দিতে হবে, রিটেইনিং ওয়াল, রাসত্মা,ুইসগেইট ও জলাধারের ডিজাইন করতে হবে। এগুলো করতে যদি প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যায় বা কমে যায় তার অনুমোদন নিতে হবে মন্ত্রী মহোদয়ের কাছ থেকে।’
প্রকল্প বাসত্মবায়নকালীন সময়ে মনিটরিং প্রসঙ্গে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, জলাবদ্ধতা সংক্রানত্ম যে কোন কাজ মনিটরিং করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই মনিটরিং কমিটির আহবায়ক হলেন গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এবং মেম্বার জয়েন সেক্রেটারি হলাম আমি। এই কমিটিতে সিটি কর্পোরেশন,গ্যাস, বিদ্যুৎ, ওয়াসাসহ বিভিন্ন সংস্থাকে রাখা হয়েছে। এই মনিটরিং কমিটি আমাদের প্রকল্পে মনিটর করবে যাতে কোন ধরনের কো–অর্ডিনেশনের অভাব না হয় এবং ভবিষ্যতেও কোন প্রকল্প হলেও তা মনিটরিং করবে। যেমন পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রকল্প (মদুনাঘাট থেকে কালুরঘাট এবং সদরঘাট থেকে এয়ারপোর্ট) আছে, সেটিও মনিটর করবে।
যে ১৬ খালের খনন কাজ শুরু হবে :
মেগা প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যে ১৬ খালের খনন কাজ শুরু করবে সেগুলো হচ্ছে, চাক্তাই খাল, বির্জা খাল, রাজাখালী খাল–১, রাজাখালী খাল–২, রাজাখালী খাল–৩, মির্জা খাল,হিজরা খাল, মহেশখাল, মরিয়মবিবি খাল, কলাবাগিচা খাল, ডোমখাল, চাক্তাই ডাইভার্সন খাল (বাকলিয়া খাল নামেও পরিচিত), বামুনশাহী খাল (কোদালাকাটা খাল, কাটা খাল, সানাইয়া খাল, মধুছড়া খালও বামুনশাহী খালের অনর্ত্মভুক্ত), নোয়া খাল (বাইজ্জা খাল ও বালু খাল নামেও পরিচিত), নাছির খাল এবং খন্দকিয়া খাল।
গত বছর চসিকের গৃহীত কার্যক্রম :
চসিকের বাজেট বই বিশেহ্মষণ করে জানা গেছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে ২৩ কোটি ১৯ লাখ ১২ হাজার টাকা খরচ করে গত বছর (২০১৬–২০১৭) নগরীর বিভিন্ন খাল, ড্রেন, নালা ও ছড়া থেকে ২ লক্ষ ৮০ হাজার ৯০৭ দশমিক ৭৬ ঘন মিটার মাটি উত্তোলন করে। এর মধ্যে সংস্থাটির যান্ত্রিক বিভাগ কর্তৃক ৮৫ হাজার ঘনমিটার মাটি উত্তোলন ও অপসারণ করা হয়েছিল। এতে ব্যয় হয়েছিল ৭ কোটি টাকা। এর বাইরে রক্ষণাবেক্ষণ খাতে জলাবদ্ধতা নিরসনে আরো ৩ কোটি টাকা ব্যয় করেছিল। এছাড়া উন্নয়ন খাতের রাজস্ব তহবিল থেকেও জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যয় করা হয়েছিল ৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
এদিকে আগামী বর্ষাকে সামনে রেখে চলতি বছর গত ৭ জানুয়ারি থেকে নগরীর ৫৭ খালকে ৬ জোনে ভাগ করেও খনন শুরু করেছিল চসিক। ইতোমধ্যে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কাজ শেষ করারও দাবি করেছেন যান্ত্রিক শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ বসাক।
গেল বছরের জলাবদ্ধতার চিত্র :
২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে তীব্র জলাবদ্ধতায় দুইবার ভোগানিত্মতে পড়েছিলেন নগরবাসী। এর মধ্যে ৪ এপ্রিল সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যনত্ম ৫৮ মিলিমিটার এবং ২১ এপ্রিল সকাল ছয়টা বিকেল তিনটা পর্যনত্ম ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। এতে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এরপর ৩১ মে থেকে ৩ জুন পর্যনত্ম টানা চারদিন, ১২ জুন এবং ৩ জুলাই প্রবল বৃষ্টিতে শহরের অধিকাংশ এলাকা তলিয়ে গিয়েছিল। এর বাইরেও বিভিন্ন সময়ে শহরের নিচু এলাকাগুলো অল্প বৃষ্টি এবং জোয়ারের পানিতে ডুবেছিল। কষ্ট পেয়েছিল সাধারণ মানুষ।
সিডিএর প্রকল্পে যা আছে :
সিডিএর মেগা প্রকল্পটিতে ১০৭ দশমিক ৭ একর জমি অধিগ্রহণে ১ হাজার ৭২৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, ৮৫ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার নতুন রাসত্মা নির্মাণে ৩১৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয় ধরা । ৩৬টি খালের মাটি অপসারণে ২৮ কোটি ৮৫ লাখ ও মাটি খননে ২৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। ১৭৬ কিলোমিটার আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের জন্য ২ হাজার ৬৪০ কোটি, ৪৮টি পিসি গার্ডার ব্রিজ প্রতিস্থাপনে ২৯৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা। বন্যার পানি সংরক্ষণে ৩টি জলাধার স্থাপনে ৪৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, ৬টি আরসিসি কালভার্ট প্রতিস্থাপনে ৭ কোটি ২০ লাখ, ৫টি টাইডাল রেগুলেটর ৮৪ কোটি ৭৫ লাখ, ১২টি পাম্পস স্থাপনে ৩২ কোটি ৬ লাখ, ৪২টি সিল্ট ট্রাপ স্থাপনে ২৯ কোটি ৪০ লাখ, ১০ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার নতুন সাইড ড্রেন নির্মাণে ১৭ কোটি ২২ লাখ ও ২০০টি ক্রস ড্রেন কালভার্ট নির্মাণে ৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।
Comments
Post a Comment