সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার পরেই চীন-ভারত, বাংলাদেশ ৫৭তম


পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সামরিক সামর্থ্য নিয়ে পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার-জিএফপি। ২০১৭ সালের তালিকায় অতীতের ধারাবাহিকতায় তালিকার শীর্ষস্থানটি এবারও যুক্তরাষ্ট্রের দখলে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া। এর পরই যথাক্রমে তৃতীয় এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছে চীন ও ভারত। তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৫৭তম। তালিকায় পাকিস্তানের অবস্থান ভারতের ৯ ধাপ নিচে। ১৩তম অবস্থান নিয়ে প্রথমবারের মতো তারা এসেছে শীর্ষ ১৫ দেশের তালিকায়।গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। তালিকায় পাকিস্তান ছাড়াও চীনের সঙ্গে ভারতের সামরিক সক্ষমতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।




বিশ্বের ১৩৩টি দেশকে তাদের সামরিক সক্ষমতার ভিত্তিতে ক্রমানুসারে সাজিয়ে তালিকা প্রকাশ করেছে জিএফপি। ২০১৭ সালের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি ওই তালিকায় ভারতের ভরতের অবস্থান ৪র্থ ও পাকিস্তানের অবস্থান ১৩তম। আর চীন ভারতেরও ওপরে—৩য়। সেরা দুইয়ের প্রথমটি যুক্তরাষ্ট্র ও পরেরটি রাশিয়া।
সামরিক সক্ষমতার ভিত্তিতে ওই তালিকা তৈরিতে দেশগুলোর সক্ষমতা ৫০টি বিভাগে পর্যালোচনা করয়েছে জিএফপি। তারা তাদের পদ্ধতি সম্পর্কে বলেছে, যেভাবে তারা এই তালিকা করে তাতে ছোট দেশ হলেও কোনও কোনও দেশ তালিকার অপরের দিকে চলে আসতে পারে যদি দেশটির সামরিক বাহিনী প্রযুক্তিগত দিক থেকে এগিয়ে থাকে। তবে ভারত ও চীনের ওপরের দিকে থাকার ক্ষেত্রে বড় সেনাসংখ্যা সহায়ক হয়েছে, মনে করে ইন্ডিয়া টাইমস। সামরিক সক্ষমতার ভিত্তিতে তালিকা করতে জিএফপি ৫০টি বিভাগ নির্ধারণ করেছে। এই বিভাগগুলোর মধ্যে রয়েছে সামরিক সরঞ্জাম, প্রাকৃতিক সম্পদ, শিল্প, ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, সেনাসংখ্যাসহ অন্যান্য খাত। দেশগুলোর পারমাণবিক বোমার সংখ্যা এই ক্রম নির্ধারণে বিবেচনা করেনি জিএফপি বরং পারমাণবিক সক্ষমতা আছে কি না সেটিই বিচার করেছে।
ভারতের মোট মোতায়েনযোগ্য সেনাসদস্য প্রায় ১৩ লাখ আর পাকিস্তানের প্রায় ৬ লাখ ৩৭ হাজার। ভারতের সামরিক বরাদ্দ ৫ হাজার ১০০ কোটি ডলার। আর পাকিস্তানের ৭০০ কোটি ডলার। ভারতের ২,১০২টি বিমানের বিপরীতে রয়েছে পাকিস্তানের ৯৫১টি বিমান। আর ভারতের ৪,৪২৬টি ট্যাংকের বিপরীতে পাকিস্তানের রয়েছে ২,৯২৪টি ট্যাঙ্ক। ভারতের ৩টি এয়ারক্র্যাফট ক্যারিয়ার ও ১১টি ডেস্ট্রয়ার থাকলেও পাকিস্তানের নেই একটিও। ভারতের ৬৭৬টি জঙ্গি বিমানের বিপরীতে পাকিস্তানের রয়েছে ৩০১টি। অ্যাটাক হেলিকপ্টার, সেলফ প্রপেল্ড আর্টিলারি এবং নৌপথের সক্ষমতা বিভাগে পাকিস্তান এগিয়ে আছে ভারতের চেয়ে। পাকিস্তানের অ্যাটাক হেলিকপ্টার ৫২টি আর ভারতের ১৬টি।
গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ারের (জিএফএস) নিরীক্ষা মতে, ভারত চীনের চেয়ে এগিয়ে আছে সেনাসংখ্যায়। ভারতের মোট সেনাসদস্য প্রায় ৪২ লাখ আর চীনের প্রায় ৩৭ লাখ। অবশ্য ‘অ্যাক্টিভ পারসোনালের’ হিসেবে চীন এগিয়ে আছে ভারতের চেয়ে। তাদের মোতায়েনযোগ্য সেনাসদস্য প্রায় ২২ লাখ যেখানে ভারতের মোতায়েনযোগ্য সেনাসদস্য প্রায় ১৩ লাখ। এছাড়াও ভারতের সংরক্ষিত সেনাসদস্য প্রায় ২৮ লাখ। আর চীনের সংরক্ষিত সেনাসদস্য প্রায় ১৪ লাখ। সামরিক বাজেট বরাদ্দেও ভারতরে চেয়ে এগিয়ে আছে চীন। ভারতের বরাদ্দের প্রায় ৩ গুণ বেশি চীনের সামরিক বরাদ্দ।
সেরা ১৫তে আরও রয়েছে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জাপান, তুরস্ক, জার্মানি, মিসর, ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও ইসরায়েল। ওই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৫৭। তালিকার সবচেয়ে নিচে রয়েছে ভুটান।




 

Comments

LMP - Last Month Popular

প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং| শীর্ষে ব্র্যাক, নর্থ সাউথ ও আইইউবি

ফোরজি সেবা পেতে জানতে হবে তিনটি তথ্য

সামনের সপ্তাহেই পুত্রকে সরাসরি সিংহাসনে বসাবেন বাদশাহ সালমান!