বাংলাদেশের পাঠানো তালিকা নিজেদের ফরম্যাটে রূপান্তর করছে মিয়ানমার

বাংলাদেশের সরবরাহ করা ৮ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীর তালিকা নিজেদের ফরম্যাটে পরিবর্তন করছে মিয়ানমার। দুই দেশের সীমান্তে ব্যাটেলিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠকের সূত্র ধরে এই তথ্য জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্টের দফতরের মুখপাত্র উ জাও তাই। রবিবার মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল নিউ লাইটস অব মিয়ানমার এই খবর জানিয়েছে।


8a166dc7faf8c370872838067200d7b8-5a9c2eee4cae5.jpg

গত বছরের আগস্টের শেষ সপ্তাহে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর পূর্ব পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে। বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে শুরু করে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাহায্য সংগঠনের হিসাবে এই সংখ্যা সাত লাখের কাছাকাছি। তাদের ফেরাতে গত জানুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের তরফ থেকে প্রত্যাবাসনের জন্য প্রথম পর্যায়ে আট হাজার রোহিঙ্গার তালিকা সরবরাহ করা হয়। ২৩ জানুয়ারি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা থাকলেও প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় আটকে যায় তা। ওই প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে।.


২০ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের ত্রাণ, পুনর্বাসন ও সমাজসেবামূলক মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ড. উইন মিয়াত আয় বাংলাদেশের পাঠানো তালিকা যাচাই-বাছাই করা হবে বলে জানান। তিনি জানান, তালিকায় থাকা মানুষেরা মিয়ানমারের বাসিন্দা কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে।  তালিকা যাচাই-বাছাই শেষে দিনে ২ থেকে ৩শ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেওয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে ঠিক কতো সময় লাগবে, সে সম্পর্কে কোনও ধারণা দেননি তিনি।


রবিবার গ্লোবাল নিউ লাইটস অব মিয়ানমারের খবরে জানানো হয়েছে, মিয়ানমার প্রেসিডেন্ট দফতরের মুখপাত্র উ জাও তাই বলেছেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এক হাজার ছয়শো পরিবারের ৮ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা সরবরাহ করা হয়েছে। ওই তালিকা আমাদের ফরম্যাট অনুযায়ী করা নয়। সেকারণে আমাদের অভিবাসন দফতর ওই তালিকাকে আমাদের ফরম্যাটে পরিবর্বনের কাজ করছে।’


এর আগে দুই দেশের সীমান্তে শুক্রবারে ব্যাটেলিয়ন পর্যায়ের ওই বৈঠকে আগামী ২৭ মার্চ থেকে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী যৌথভাব টহল দেবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে শনিবার জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যমটির খবরে বলা হয়, যৌথ টহল ছাড়াও সীমান্তের নানা ঘটনায় সময়মতো নিয়মিত তথ্য বিনিময়েরও বিষয়েও সম্মতি এসেছে ওই বৈঠকে।


সম্প্রতি দুই দেশের সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরে যেতে মাইকিং করে নির্দেশ দেয় মিয়ানমার। ফরাসি বার্তা সংস্থা তাদের এক খবরে জানায় আবারও সহিংসতার মুখে পড়ার আশঙ্কায় ওই এলাকা ছেড়ে এরই মধ্যে দেড়শো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।


মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বলছে, ফিরে আসা শরণার্থীদের গ্রহণ করতে বেশ কয়েকটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে টাং পিয়ো লেটু ও না খু ইয়া ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে মংডুতে। আর ট্রানজিট ক্যাম্প হিসেবে বানানো হয়েছে হ্লা ফো কাউং ক্যাম্প।

Comments

LMP - Last Month Popular

প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং| শীর্ষে ব্র্যাক, নর্থ সাউথ ও আইইউবি

ফোরজি সেবা পেতে জানতে হবে তিনটি তথ্য

সামনের সপ্তাহেই পুত্রকে সরাসরি সিংহাসনে বসাবেন বাদশাহ সালমান!