বাবর লিমন টিপুসহ ৬৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট |সিআরবির জোড়া খুনের মামলা

3_12470-1.jpg


নগরীর সিআরবিতে জোড়া খুনের মামলায় যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য হেলাল আকবর বাবর, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ সম্পাদক সাইফুল আলম ওরফে লিমন ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপুসহ ছাত্রলীগ–যুবলীগের ৬৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মহানগর জোনের ইনস্পেক্টর মো. জাহাঙ্গীর আলম চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জিআরও শাখায় এ চার্জশিট দাখিল করেন। এর আগে ২০১৫ সালের ২৩ নভেম্বর নগর গোয়েন্দা পুলিশ ৬২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।


সর্বশেষ তদন্তে পিবিআই আরো দুইজনের বিরুদ্ধে হত্যাকা–ে জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পান। সম্পূরক চার্জশিটের অন্তর্ভুক্ত দুইজন হলেন, অমিত চক্রবর্তী শশী ও মো. টিপু। অতিরিক্ত উপ–পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী পূর্বকোণকে বলেন, জোড়াখুনের মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছেন। এছাড়া শিশু–কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় এ বিষয়ে ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করা হয়েছে।


রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ১ কোটি ১০ লাখ টাকার দরপত্র (টেন্ডার) দাখিলকে কেন্দ্র করে যুবলীগের বাবর ও ছাত্রলীগের লিমন গ্রুপের মধ্যে ২০১৩ সালের ২৪ জুন সকাল সাড়ে ১১ টা থেকে প্রায় ২০ মিনিট ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও গোলাগুলি হয়। ওইদিন দুইগ্রুপের প্রায় ২০ রাউন্ড গুলিবিনিময় হয়। এ সময় স্বর্গীয় কানু পালিতের ছেলে সাজু পালিত (২৮) ও স্থানীয় আছিয়া বেগমের ৮ বছর বয়সী শিশু আরমান ওরফে টুটুল মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করেন। নিহত সাজু পালিত ঘটনার সময় সিআরবির সামনে একটি চা দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন। আর শিশু আরমান ওরফে টুটুল বাসা থেকে বের হয়ে খেলছিল। এ ঘটনায় যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হেলাল আকবর ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ–সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ওরফে লিমনকে সংগঠন থেকে বহিস্কার করা হয়। জানা যায়, নগর আওয়ামীলীগ সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন বাবর এবং নগর আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী লিমন। পুলিশের টানা অভিযানে সেসময় ছাত্রলীগ–যুবলীগের ৫২ জন গ্রেপ্তার হন। পরে আদালত থেকে তাঁরা জামিন লাভ করেন।


দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় কোতোয়ালী থানার তৎকালীন এসআই মো. মহিবুর রহমান ৮৭ জন ছাত্রলীগ–যুবলীগ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। এছাড়া নিহত সাজু পালিতের মা মিনতি পালিত সিএমএম আদালতে অজিত বিশ্বাস, শিমুল প্রসাদ চৌধুরী ওরফে পিন্টুসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করেন। আদালত দুই মামলার তদন্ত একসাথে করার নির্দেশ দেন। তাই গতকাল দুই মামলায় একসাথে চার্জশিট দাখিল করা হয়।


চার্জশিটে ৩৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। দ–বিধির ১৪৭/১৪৮/১৪৯/৩০২/৩৪ ধারার অভিযোগ আনা হয়।

Comments

LMP - Last Month Popular

প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং| শীর্ষে ব্র্যাক, নর্থ সাউথ ও আইইউবি

ফোরজি সেবা পেতে জানতে হবে তিনটি তথ্য

সামনের সপ্তাহেই পুত্রকে সরাসরি সিংহাসনে বসাবেন বাদশাহ সালমান!