শোকসভায়ও স্লোগান দেয়। হাততালি দেয়। পাল্টা-পাল্টি মহড়া দেয়। শক্তি প্রদর্শন করে। ।|ছাত্রলীগ

ts-40ছাত্রলীগ একের পর এক বিশৃঙ্খলা করে যাচ্ছে। তারা বুঝে না কোথায় কোন্ ধরনের আচরণ করতে হবে। শোকসভায়ও স্লোগান দেয়। হাততালি দেয়। পাল্টা-পাল্টি মহড়া দেয়। শক্তি প্রদর্শন করে। যেখানে এক জায়গায় ছাত্রলীগের কিছু কর্মী জড়ো হচ্ছে সেখানেই কোনো না কোনো ঝামেলা পাকাচ্ছে। এমনকি সাংবাদিকদের ওপর হামলা করতেও দ্বিধা করছে না। তাদের থামানোর কেউ নেই।
পরপর দুইদিন চট্টগ্রাম মহানগর ও উত্তর জেলা ছাত্রলীগ আয়োজিত দুইটি অনুষ্ঠান নিজেরাই প- করে দিল। উভয় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। গত সোমবার ঐতিহাসিক লালদিঘি ময়দানে প্রয়াত জননেতা আলহাজ এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরীর শোকসভার আয়োজন করেছিল নগর ছাত্রলীগ। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং নগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। তাদের কেউ বক্তব্য দিতে পারেননি। সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়েছিলেন একমাত্র প্রধান অতিথি। কারণ প্রয়াত নেতার শোকসভা হয়ে উঠেছিল ছাত্রলীগের স্লোগান, হাততালি এবং শক্তিমত্তা প্রদর্শনের স্থান হিসেবে। এর আগেও লালদিঘি ময়দানে এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরীর যতগুলি শোকসভা হয়েছিল সবকটিতেই ছাত্রলীগকে স্লোগান এবং হাততালি দিতে দেখা গেছে। অনুষ্ঠানের অতিথি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বার বার ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বুঝানোর চেষ্টা করেছেন শোকসভা হাততালি এবং স্লোগান দেয়ার জায়গা নয়। কিন্তু কে শুনে কার কথা।
একইভাবে গতকাল উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনেও স্লোগান পাল্টা স্লোগান দিতে দেখা গেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বার বার অনুরোধ করছেন স্লোগান পাল্টা স্লোগান না দেয়ার জন্য। কিন্তু কেউ তাদের কথা কর্ণপাত করলো না। শেষ পর্যন্ত সম্মেলন প- হয়ে গেল। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা, সংসদ সদস্য এবং জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠান বন্ধ করতে বাধ্য হন তারা। যেখানে কেন্দ্রীয় নেতাদের কথা শুনছে না সেখানে আওয়ামী লীগের নগর এবং জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের পক্ষে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা আরো কঠিন। সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টরের কার্যালয় এবং সাধারণ মানুষের গাড়ি ভাঙচুর করার পাশাপাশি তিন সাংবাদিকের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জড়িত আট শিক্ষার্থীকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করেছে। কিন্তু ছাত্রলীগ সাংগঠনিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
এক সপ্তাহের মধ্যে ছাত্রলীগ চট্টগ্রামে তিনটি আলোচিত ঘটনা ঘটিয়েছে। এছাড়া ছোট-খাটো কত ঘটনা তাদের সাথে ঘটছে তার কোন ইয়ত্তা নেই। এসব বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কোনো নজর নেই।
নগর এবং জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার সাথে আলাপকালে পূর্বকোণকে তারা বলেন, ছাত্রলীগে টোকাই শ্রেণি এবং হাইব্রিডের আধিপত্য বেড়ে গেছে। যারা তদবির করে পদ-পদবি নিয়েছে কিংবা নিতে চায় তারা নিজের আধিপত্য বিস্তারের জন্য যেকোন কর্মসূচিতে টোকাই এবং হাইব্রিডকে সাথে নিয়ে যায়। বিশেষ করে টোকাই শ্রেণি কখনোই শোকসভা আর সম্মেলনের গুরুত্ব বুঝে না। তাদের কাছে সব কর্মসূচিই একই রকম। টোকাই এবং হাইব্রিডদের ছাত্রলীগ থেকে বিদায় করতে না পারলে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ করা যাবে না। কমিটি ঘোষণার ক্ষেত্রে বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে আরো বেশি করে ভাবতে হবে।



Comments

LMP - Last Month Popular

প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং| শীর্ষে ব্র্যাক, নর্থ সাউথ ও আইইউবি

ফোরজি সেবা পেতে জানতে হবে তিনটি তথ্য

সামনের সপ্তাহেই পুত্রকে সরাসরি সিংহাসনে বসাবেন বাদশাহ সালমান!