যেদিকে দেখি শুধ্ইু আবর্জনা |আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধনীতে পূর্তমন্ত্রী

04-768x432.jpg


গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, অতিসত্ত্বর আগ্রাবাদে গণপূর্তের জায়গায় গড়া পার্ক ভেঙে খেলার মাঠ করবো। সাত একর জায়গার উপর তিনটি খেলার মাঠ হবে। এরমধ্যে ফুটবল, ক্রিকেট, হকি খেলার মাঠ থাকবে। বাস্কেট বল খেলার ব্যবস্থা রাখা হবে। শিশুদের জন্য নিরাপদ জায়গায় একটি শিশু পার্ক করবো।


তিনি গতকাল শুক্রবার সকালে নগরী জিইসি মোড়ে সিডিএ নির্মিত আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব পরিকল্পনার কথা জানান। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম।


গণপূর্ত মন্ত্রী সিডিএ’র প্রশংসা এবং সিটি কর্পোরেশনের কর্মকা–ের সমালোচনা করে বলেন, আমি চিন্তাও করিনি, ফ্লাইওভারের নিচে এমন সুন্দর কাজ করা যায়। সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম চট্টগ্রামকে নিয়ে কি চিন্তা করেন সেটা বুঝা যায়। ফ্লাইওভারের নিচের এ অংশটা পুরোটাই অকেজো পড়ে থাকতো। তিনি (আবদুচ ছালাম) সেখানে সৌন্দর্য বর্ধক এমন একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিলেন। কিন্তু এর বাইরে নগরীর এপাশে– ওপাশে, এখানে– ওখানে যেদিকেই দেখেন শুধ্ইু আবর্জনা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আবর্জনা পরিশোধন করে কাগজ তৈরি, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাপনা রয়েছে। আয়ের উৎস হিসেবে গড়ে উঠেছে। আমাদের এখানে সে ধরনেরও কোনো উদ্যোগ নেই।


গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের এখানে কোনো পরিকল্পিত সুয়্যারেজ সিস্টেম গড়ে তোলা হয়নি। এখানে মানববর্জ্য নালায় যায়, সেখান থেকে খালে ও নদীতে যায়। আমাদের ভাগ্য ভালো কর্ণফুলী নদী এখনো এ অবস্থায় আছে। এখানে সুয়্যারেজ সিস্টেম থাকা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী তাড়াতাড়ি সেন্ট্রাল সুয়্যারেজ প্রকল্প নেওয়ার কথা বলেছেন। ওয়াসা বা সিটি কর্পোরেশন যদি সে ধরনের কোনো প্রকল্প গ্রহণ করে তবে তা একনেকে অনুমোদনে সহযোগিতা থাকবে আমার। সিটি কর্পোরেশনের মেয়র যে–ই হোক সুয়্যারেজ প্রকল্প নিয়ে যিনিই আসবেন তাকেই আমি সহযোগিতা করবো।


মন্ত্রী নগরীর অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে বলেন, আইনে বলা আছে ফুটপাত থেকে ৫ ফুট ভিতরে ভবন করা যাবে। ঢাকা–রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রামে দেখেন কয়টা ভবন ফুটপাত থেকে ভিতরে আছে। ভাঙতে যান, দেখবেন আদালতের স্টে অর্ডার নিয়ে বসে আছে। রাস্তার উপর শত শত দোকান করা হয়েছে। সিডিএ্ ভাঙতে গেলে আদালতের নোটিশ দেখানো হবে। মালেশিয়া, ব্যাংককে যান, সেখানে এমন কোনো গলি নেই যেখানে দুটি গাড়ি চলতে পারে না। কিন্তু আমাদের ঢাকা– চট্টগ্রাম কোথাও এ ধরনের ব্যবস্থা ন্ইে। আমাদের এ বিষয়ে নজর দিতে হবে। এজন্য সিডিএ– সিটি কর্পোরেশনকে দায়িত্ব নিতে হবে।


তিনি বাণিজ্যিক রাজধানীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করার ব্যাপারেও এই দুই প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করতে হলে অন্তত অর্ধেক ব্যাংকের হেড কোয়ার্টার চট্টগ্রামে আনতে হবে।


গণপূর্তমন্ত্রী নগরীতে পার্কের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, পৃথিবীর বড় বড় দেশে পার্ক থাকে। আমাদের এখানেও আছে। ডিসি হিলকে সেভাবে গড়ে তোলা হলো। কিন্তু সেখানে এখন বইমেলার নামে জুয়া খেলা, ব্ই মেলার নামে চায়ের দোকান হচ্ছে। এখন আর মানুষের হাঁটাচলার জায়গাও নেই। পাকিস্তান আমলে আবাসনের জন্য অধিগ্রহণকৃত জাতিসংঘ পার্কে পার্ক নির্মাণ করতে গেলে বলা হলো, সিটি কর্পোরেশন দখলি সূত্রে মালিক। আমরা এখানে বসেছি তাই বলে কি আমরা এই জায়গার দখলি সূত্রে মালিক হয়ে যাবো? জাতিসংঘ পার্কও হবে ইনশাআল্লাহ। আগ্রাবাদে গণপূর্তের জায়গায় শিশু পার্ক করলো, ২শটি দোকান করলো। অতিসত্ত্বর পার্ক ভেঙে খেলার মাঠ করবো। সাত একর জায়াগর উপর তিনটি খেলার মাঠ হবে। এরমধ্যে ফুটবল, ক্রিকেট, হকি ও বাস্কেট বল খেলার মাঠ থাকবে। শিশুদের জন্য নিরাপদ জায়গায় একটি শিশু পার্ক করবো।


গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন তাঁর বক্তব্যে আশ্বাস দিয়ে বলেন, জিইসি মোড়ে গণপূর্তের সাড়ে ৮ একর জায়গার উপর ১৬টি সুউচ্চ টাওয়ার হবে। প্রতিটি টাওয়ার হবে ৩০/৩৫ তলা বিশিষ্ট। এর সঙ্গে সিডিএর প্রকল্প যোগ হলে এ এলাকা অতিসত্ত্বর বদলে যাবে। নান্দনিক শহর হবে চট্টগ্রাম।


তিনি এ প্রসঙ্গে আরো বলেন, মানুষ পানির কাছে থাকতে চায়। তাই আমরা সমুদ্রের পাড়ে একটি ছোট শহর গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীরও এ ব্যাপারে সম্মতি রয়েছে। সিডিএর আউটার লিংক রোডের কাজ শেষ হলেই ছোট শহরের পরিকল্পনা বাস্তব রূপ নিবে।


সভাপতির বক্তব্যে সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, ২০০৯ সাল থেকে যে উন্নয়ন প্রকল্প সিডিএ গ্রহণ করেছে চট্টগ্রামের সেই উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান। তখন আমাদের স্লোগান ছিলো, জননেত্রী শেখ হাসিনার অবদান, উন্নয়নের মহোৎসবে চট্টগ্রাম। প্রাথমিক কাজ শেষ করে বৃহত্তর কাজ শুরু করি। তখন স্লোগান পরিবর্তন করি, শেখ হাসিনা অবদান, উন্নয়নের মহাসড়কে চট্টগ্রাম।


তিনি বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন শহরে, ইউরোপ হোক, আমেরিকা হোক, দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশ হোক, প্রতিটি শহরে একটি কেন্দ্র থাকে। সেখানে চারটি জিনিস বিদ্যমান থাকে। আবাসন, রেস্টুরেন্ট, শপিংমল ও হাসপতাল। লালখান বাজার থেকে দুই নম্বর গেট পর্যন্ত এলাকায় সবগুলো সুযোগ আছে। চট্টগ্রামের নামিদামি হোটেল, শপিং কমপ্লেক্স, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র সব এখানে রয়েছে। হাজার কোট্ িটাকার বিনিয়োগ এখানে হয়েছে।


আমি চট্টগ্রামের সন্তান। ২০০৯ সাল থেকে আমি স্বপ্ন দেখতে শুরু করি। ব্যাংককের মত্,ো আমেরিকার টুইন টাওয়ারের মতো, নিউইয়র্কের টাইম স্কোয়ারের মতো একটি এলাকা দৃশ্যমান করার স্বপ্ন দেখেছি। আমার পরিকল্পনা ছিল দু’ নম্বর গেট থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত টাইমস্কোয়ারের মতো করে গড়ে তোলার। যেখানে রাত দিনের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকবে না। হোটেল থেকে বের হয়ে বিদেশীরা তিন কিলোমিটার হাঁটতে পারবে, শপিং করতে পারবে, খারাপ লাগলে হাসপাতালে যেতে পারবে। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আমাকে সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ করে দিয়েছেন। আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ।


প্রসঙ্গক্রমে সিডিএর চেয়ারম্যান পতেঙ্গায় সিডিএর উদ্যোগে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে ওঠার বিষয় বর্ণনা দিয়ে বলেন, চট্টগ্রামের মানুষকে বিনোদনের জন্য এখন আর অন্য কোথাও যেতে হবে না। পতেঙ্গায় ৫শ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। এখানে বিনোদনের সব ব্যবস্থা থাকবে।


উল্লেখ্য, সৌন্দর্যবর্ধন কাজের অংশ হিসেবে গতকাল ইউনেস্কো সিটি সেন্টারের সামনে ফ্লাইওভারের নিচের আইল্যান্ডের দুপাশে নানা জাতের মৌসুমী ফুল দিয়ে সাজানো হয়। এর মধ্যে একটি ওয়াকওয়েও গড়ে তোলা হয়। আর ফ্লাইওভারের স্তম্ভগুলো আচ্ছাদিত ছিল সবুজ আস্তরণে।


ফ্লাইওভারের সৌন্দর্য বর্ধনে একগুচ্ছ পরিকল্পনা


সিডিএর চেয়ারম্যান তাঁর বক্তব্যে সৌন্দর্যবর্ধন কাজের বর্ণণা দিয়ে বলেন, বর্তমানে যে সৌন্দর্য উপভোগ করছেন তা পারমানেন্ট নয়। মাত্র একদিনের মধ্যে এগুলো তৈরি হয়েছে। এটা সিম্বলিক (প্রতিকী) বিষয়। আগামী ৩/৪ মাসের মধ্যে ফ্লাইওভারের চারপাশে এমনভাবে সাজানো হবে যাতে চট্টগ্রামের মানুষ নতুন এক চট্টগ্রাম দেখতে পাবেন।


ফ্লাইওভারের মুরাদপুর, দু’ নম্বর গেট ও লালখান বাজারে র‌্যাম্প অংশে তিনটি সুপার শপ করা হবে। জিইসি মোড়ে হ্যাঙ্গিং ব্রিজ করা হবে। যেখানে ছোট ছেলেমেয়েরা খেলতে, দৌড়ঝাঁপ করতে পারবে। ফার্স্ট ফুড শপ হবে। এলিভেটেড এক্সেলেটর দিয়ে রাস্তার এপাশ থেকে ওই পাশে মানুষ যাতায়াত করতে পারবে। রাস্তার নিচ দিয়ে হাঁটাচলা করতে হবে না। ফ্লাইওভারের দৃষ্টিনন্দন স্থানে ফুলের বাগান, ওয়াক ওয়ে, বসার স্থান ও ট্য়লেট সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে। উন্নত বিশ্বের মতো পে–পার্কিং ব্যবস্থা থাকবে। বিনামূল্যে নয়, মূল্য দিয়েই গাড়ি পার্ক করা যাবে।


সৌন্দর্য বর্ধন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সিডিএ বোর্ড সদস্য জসিম উদ্দিন, জসিম উদ্দিন শাহ্, বোর্ড সদস্য ও কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন, কে বি এম শাহজাহান, বোর্ড সদস্য ও কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, সোহেল শাকুর, ডা. শেখ মোহাম্মদ শফিউল আজম।


ইঞ্জিনিয়ার মো. মোস্তাফা জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন, সচিব তাহেরা ফেরদৌস বেগম, প্রধান প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন চৌধুরী, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ শাহীনুল ইসলাম খান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাসান বিন শামস, রাজিব দাশ, মো. হাসান, প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমান, উপ–সচিব অমল গুহ, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. নাজের, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা জসিম উদ্দিন, আবুল হাসনাত বেলাল, দাশ দাশ, মোজাম্মেল হক মানিক, যুবলীগ নেতা কফিল উদ্দিন, চউক কর্মচারী লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন।

Comments

LMP - Last Month Popular

প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং| শীর্ষে ব্র্যাক, নর্থ সাউথ ও আইইউবি

ফোরজি সেবা পেতে জানতে হবে তিনটি তথ্য

সামনের সপ্তাহেই পুত্রকে সরাসরি সিংহাসনে বসাবেন বাদশাহ সালমান!