বিস্ময়কর প্রতিভা চট্টগ্রামের বৃদ্ধ রেজু ফোরম্যান, শুধু একবার দেখে তৈরি করেন যে কোন যন্ত্র- ইঞ্জিনিয়াররাও অবাক এমন প্রতিভা দেখে !
- Get link
- X
- Other Apps

রেয়াজুল হক রেজু (৬৫)। পেশায় কারখানার ফোরম্যান। কিন্তু নামে ফোরম্যান হলেও
কল–কারখানার যন্ত্র বিষয়ে অনেক প্রকৌশলীর চেয়ে দক্ষ তিনি! একবার দেখেই তৈরি করতে পারেন যেকোন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি। শুধু তাই নয়, শিল্প প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রগুলো যেন তার মুখস্থ। কারখানায় যান্ত্রিক কোন সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয়ে ইঞ্জিনিয়াররা যখন অথৈ সাগরে পড়েন, তখন ছুটে যান রেজু ফোরম্যানের কাছে। তিনি এসেই সে যন্ত্রটি সচল করে দেন। এভাবে অনেক কঠিন যান্ত্রিক সমস্যাও অনায়াসে সমাধান করেন রেজু। ফলে শিল্প উদ্যোক্তাদের কাছে তিনি এক অমূল্য সম্পদে পরিণত হয়েছেন। আর তার এই গুণ দেখেই অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁকে এনে নিজের কারখানায় চাকুরি দিয়েছেন দেশের খ্যাতনামা শিল্প প্রতিষ্ঠান জিপিএইচ ইস্পাতের মালিক শিল্পপতি মো. আলমাস শিমুল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে খবর পেয়ে সরেজমিনে রেজুর কর্মস্থল জিপিএইচ কারখানায় গিয়ে উপরিউক্ত তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়। রেজু ফোরম্যানের বিস্ময়কর প্রতিভার কথা স্বীকার করেন জিপিএইচের মালিক আলমাস শিমুল নিজে। সরেজমিন পরিদর্শনকালে রেজু’র তৈরি স্ক্র্যাপ শেয়ারিং মেশিন, রড ব্যান্ডিং মেশিন, স্ক্র্যাপ স্কুইজিং মেশিন, স্ল্যাক ক্রেশার এন্ড আয়রন কালেক্টর এবং অটো কাটার মেশিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রে শ্রমিকদের নিরবিচ্ছিন্ন কাজ করতে দেখা যায়। বিস্ময় প্রতিভার অধিকারী ফোরম্যান রেয়াজুল হক রেজুর বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট থানার গোত্রশাল গ্রামে। তিনি ঐ এলাকার মো. সেকান্দার আলীর ছেলে। রেজু সম্পর্কে জানতে চাইলে, জিপিএইচ এর এম.ডি আলমাস শিমুল বলেন, রেজু ফোরম্যান এক ব্যতিক্রম প্রতিভার উদাহরণ। এমন প্রতিভা আমি আর দেখিনি। একসময় তিনি সীতাকু–ের ফকিরহাটে তারেক স্টিল মিলে কাজ করতেন। একবার জিপিএইচ কারখানায় একটি মেশিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। কারখানার প্রকৌশলীরা সেই ত্রুটি নিয়ে অনেক কাজ করলেও যন্ত্রটি সচল হচ্ছিল না। তখন একজন যন্ত্রটি সচল করতে রেজু ফোরম্যানকে নিয়ে আসতে বলেন। খবর পাঠানো হয় রেজু’র কাছে। তিনি এসেই যন্ত্রটি সচল করে দেন। এরপরও যান্ত্রিক ত্রুটিক দূর করতে কয়েকবার ডাকা হয় তাকে। এসময় শিল্পপতি আলমাস শিমুল উপলব্ধি করেন যে, রেজু ফোরম্যানকে তার সার্বক্ষনিক প্রয়োজন হবে। ফলে ১৯৯৬ সালে তিনি তাকে নিজের কারখানায় নিয়ে এসে নিয়োগ দেন। এরপর থেকে এখনো পর্যন্ত এখানেই কাজ করেন বৃদ্ধ রেজু। শিল্প উদ্যোক্তা আলমাস শিমুল বলেন, আমার কাছে আনার পর তাকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে লাগিয়েছি আমি। কারখানার জন্য আগে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো এমন যন্ত্র আমদানি না করে রেজু ফোরম্যানকে বিদেশে নিয়ে গিয়ে যন্ত্রটি দেখিয়ে এনে তাকে দিয়ে সেটি তৈরি করিয়েছি ৭৫ শতাংশ কম খরচে! এভাবে অনেক যন্ত্র তৈরি করেছেন ফোরম্যান রেজু। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্ক্র্যাপ শেয়ারিং মেশিন, রড ব্যান্ডিং মেশিন, স্ক্র্যাপ স্কুইজিং মেশিন, স্ল্যাক ক্রেশার এন্ড আয়রণ কালেক্টর এবং অটো কাটার মেশিন। এর মধ্যে স্ক্র্যাপ শেয়ারিং মেশিনটি একসময় ইন্ডিয়া থেকে আমদানি করতে হতো। এটি ক্রয় মূল্য ছিলো প্রায় ত্রিশ লাখ টাকা। আলমাস শিমুল একবার রেজু ফোরম্যানকে ইন্ডিয়ায় নিয়ে গিয়ে এ যন্ত্রটি দেখিয়ে আনেন। পরে রেজু দেশে এসে মাত্র ৭ লাখ টাকায় এটি তৈরি করে দেন। এতে ৭৫ শতাংশের চেয়েও বেশি খরচ সাশ্রয় হয়। শুধু তাই নয়, ভারত থেকে ৩০ লাখ টাকায় আনা স্ক্র্যাপ শেয়ারিং মেশিনে মাত্র দেড় ইঞ্চির লোহা কাটা সম্ভব হতো। কিন্তু ৭লাখ টাকা ব্যয়ে রেজুর তৈরি মেশিনে আড়াই ইঞ্চি পর্যন্ত লোহা অনায়াসে কাটা যায়। ভারতের মেশিনটিকে একটানা দুই ঘন্টা চালানোর পর কিছুক্ষন বন্ধ রাখতে হতো। রেজুর মেশিনটি দিনরাত চব্বিশ ঘন্টাই একটানা কাজ করে। এভাবে কোন গুরুত্বপূর্ণ মেশিন কেনার প্রয়োজন হলে শিল্পপতি আলমাস শিমুল তাকে সেদেশে নিয়ে গিয়ে যন্ত্রটি দেখিয়ে আনলেই তিনি এসে তৈরি করে দেন। একজন ফোরম্যানের এই বিস্ময়কর প্রতিভা দেখে বিস্মিত জিপিএইচ এম.ডি বলেন, একবার ভাটিয়ারীতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির একটি অনুষ্ঠানে রেজু ফোরম্যানকে নিয়ে গিয়েছিলাম। কৃতিত্বের জন্য তাকে সেখানে সম্মাননা দেওয়া হয়। এসময় তৎকালীন জিওসি রেজুকে কামান ও ট্যাংক দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন এসব তিনি তৈরি করতে পারবেন কিনা ? জবাবে রেজু আতœবিশ্বাসের সাথেই জানায় যে, যদি তাকে ভেতরের অংশ দেখানো হয় তাহলে অবশ্যই তৈরি করতে পারবেন। এভাবে সব কাজই সাহসের সাথে করেন বৃদ্ধ রেজু ফোরম্যান। জিপিএইচ এম.ডি বলেন, অনেক সাধারণ যুবককে মাত্র ৮–১০ হাজার টাকা বেতনের চাকুরিতে নিয়ে এসে রেজুর কাছে যন্ত্রপাতি মেরামতের কাজ শিখিয়ে এখন ৫০–৬০ হাজার টাকা বেতন দিচ্ছেন তারা। রেজু নিজের পাশাপাশি তার কারখানার জনশক্তিকে অনেক দক্ষ করে তুলতে এবং আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখছেন বলে জানান তিনি। যন্ত্রপাতি নির্মাণ বিষয়ে নিজের আতœবিশ্বাসের কথা বললেন ফোরম্যান রেয়াজুল হক রেজুও। তিনি বলেন, একসময় চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ মোস্তফা স্টিল, পরে তারেক স্টিল হয়ে জিপিএইচ কারখানায় যোগ দেন তিনি। তার কাজ দেখে এই কারখানার মালিক আলমাস শিমুল নিয়ে এসেছেন। নিয়মিত কাজের পাশাপাশি মালিক যে যন্ত্র তৈরি করতে বলেন সেটি তৈরি করে দেন তিনি। কিভাবে একবার দেখেই সব যন্ত্র তৈরি করেন–এমন প্রশ্নের জবাবে বৃদ্ধ রেজু এক চিলতে হেসে বলেন, এটা তো আমি নিজেও জানি না। যা দেখি তা বানাতে পারি আমি। এ কারণে মালিক পৃথিবীর অনেক দেশে নিয়ে গেছেন আমাকে। তারপর যে যন্ত্রটি বানাতে হবে সেটি ভালো করে দেখে দেশে এসে বানিয়ে দিয়েছি। আর অনেককে এ কাজ শেখানোর চেষ্টা করেছি। মালিক তাকে এভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। ভবিষ্যতেও মালিক যা বলবেন সেটি তৈরি করবেন বলে জানান রেজু ফোরম্যান।
✐চট্টগ্রাম [Chattogram]💖
💖 MyCtgBangla-MCB Post ✐
💖দৈনিক পূর্বকোণ [dainikpurbokone.net]🏷️
💖প্রযুক্তি [Tech]✐
Featured
- Get link
- X
- Other Apps
Comments
Post a Comment