বাংলাদেশে রোগী বাণিজ্যের সফর স্থগিত করলেন কলকাতার প্রতারক ডাঃ গৌতম খাস্তগীর 💚 CGBANGLA.com ।| COOL CONTENT from Chittagong

gowtam-m120160926083802সব আয়োজন শেষ করেও বাংলাদেশে আসা স্থগিত করলেন ডা. গৌতম খাস্তগীর। কলকাতার প্রজনন বিশেষজ্ঞ এবং গাইনোকোলজিক্যাল এন্ডোস্কোপিক সার্জন পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশের রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে এই খাস্তগীরের বিরুদ্ধে।



সূত্র জানায়, ঢাকার উপকণ্ঠে একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর এবং ১ ও ২ অক্টোবর রোগী দেখার কথা ছিল খাস্তগীরের। তবে বাংলানিউজে সংবাদ প্রকাশের পর প্রমাণ মেলে, বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) অনুমোদন না নিয়েই এ দেশে রোগী দেখছেন তিনি। সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আমলে নিয়ে খতিয়ে দেখছে বিএমডিসি এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর।



ওই হাসপাতালের একজন দ্বায়িত্বশীল কর্মকর্তা বাংলানিউজকে জানান, ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবরের শিডিউলটি স্থগিত করা হয়েছে।

তবে সূত্র জানায়, শিডিউল স্থগিত করে বিএমডিসি থেকে অনুমোদন নেওয়ার তোরজোড় চালাচ্ছেন ডা. খাস্তগীর ও ওই প্রতিষ্ঠান। আগামী দুর্গাপূজার ছুটিতে ডা. খাস্তগীর বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করবেন। মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের কাগজ জোগাড়ের জন্যে আবেদন করেছেন। তবে বিগত দিনগুলোতে বিএমডিসি'র অনুমোদন না নিয়েই রোগী দেখেছেন- এ অভিযোগের বিষয়ে বিএমডিসির কাছে জবাবদিহি করতে হচ্ছে খাস্তগীরকে।



বিএমডিসি'র রেজিস্ট্রার ডা. মো. জাহেদুল হক বসুনিয়া মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বাংলানিউজকে বলেন, ‘দু’ভাবে বিদেশি চিকিৎসকদের দেশে রোগী দেখার অনুমোদন দেওয়া হয়- দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি। দীর্ঘমেয়াদি বা ট্রান্সফার অব টেকনোলজি হিসেবে দীর্ঘ মেয়াদে আসেন চিকিৎসকরা। আবার ১ থেকে ৭ দিনের জন্যেও স্বল্পমেয়াদে আসতে পারেন। তবে একদিনের জন্যে এলেও তার জন্যে বিএমডিসি'র অনুমোদন নিতে হবে’।

‘বিএমডিসি'র অনুমোদন না নিয়ে রোগী দেখলে স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেক্ষেত্রে থানাকে আমরা বিষয়টি জানিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে বলে থাকি’- বলেন বসুনিয়া।

‘এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও বিষয়টি জানাতে হয়। আর যদি দীর্ঘমেয়াদে আয়ের জন্যে আসেন, তবে সেক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে তার পারিশ্রমিকের বিষয়টিও নির্ধারণ করতে হয়’।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল) সামিউল ইসলাম সাদী বাংলানিউজকে বলেন, ‘ডা. গৌতম খাস্তগীরের বাংলাদেশে অনুমোদনের বিষয়ে মেডিকেল-ডেন্টাল কাউন্সিল ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে খোঁজ নেওয়া হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার এ অবৈধ ব্যবস্থাপনায় রোগী দেখার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।

সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএমডিসি'র নিবন্ধন শাখায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ নামে কলকাতার কোনো চিকিৎসকেরই দেশে রোগী দেখার অনুমোদন নেই।

জানা গেছে, বাংলাদেশে প্রথমে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম, পরে ঢাকার একটি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতারণার জাল বিছিয়েছেন এই চিকিৎসক গৌতম খাস্তগীর।

তবে কলকাতার ডা. গৌতম খাস্তগীরের কোনো মেয়াদেরই নিবন্ধন নেই বলে বাংলানিউজকে জানান বিএমডিসি'র প্রশাসনিক কর্মকর্তা বোরহানউদ্দিন। তিনি বলেন, দেশের কোনো মেডিকেল কলেজ বা হাসপাতালে বা অন্য কোথাও রোগী দেখার জন্যে ডা. গৌতম খাস্তগীর আবেদন করেননি।

প্রিয়তা বালা (ছদ্মনাম) নামে একজন নারী বাংলানিউজকে বলেন, ‘ডা. গৌতম খাস্তগীরের পরামর্শে কলকাতায় যাই। তার আগে স্বামীর সঙ্গে এখানে-সেখানে খোজঁ-খবর নিয়ে জানতে পারি, খোদ কলকাতার রোগীদেরই তার প্রতি আস্থা নেই। যে কারণে বাংলাদেশি রোগীদের দিকে ঝুঁকছেন তিনি’।

কলকাতার একটি সূত্র বাংলানিউজকে জানিয়েছে, সেখানকার একজন সাংবাদিকের মাধ্যমে ঢাকায় প্রতারণার ঘাঁটি গাড়তে চাইছেন ডা. গৌতম খাস্তগীর। নি:সন্তান দম্পতিদের আবেগকে পুঁজি করেই এখান থেকে কলকাতায় নিজের বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে চাইছেন তিনি।

Comments

LMP - Last Month Popular

প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং| শীর্ষে ব্র্যাক, নর্থ সাউথ ও আইইউবি

ফোরজি সেবা পেতে জানতে হবে তিনটি তথ্য

সামনের সপ্তাহেই পুত্রকে সরাসরি সিংহাসনে বসাবেন বাদশাহ সালমান!