‘নিজ শহরের আইন মানলেই ব্র্যান্ডিং সম্ভব’
শিল্পী হাশেম খান বলেছেন, ‘যারা আইন তৈরি করেন তারাই যদি উল্টোপথে গাড়ি চালান তাহলে কীভাবে ব্র্যান্ডিং হবে। নিজ শহরকে ভালবাসলে এবং নিজ শহরের আইন মানলেই ব্র্যান্ডিং সম্ভব।’
ঢাকা জেলাকে ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য শনিবার দিনব্যাপী রাজধানীর ইস্কাটনস্থ বিয়াম অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় তিনি একথা বলেন।
বিশ্ববাসীর নিকট ঢাকাকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় ঢাকা জেলা প্রশাসন এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
শিল্পী হাশেম খান বলেন, ‘আমরা সবাই আইন মানার কথা বলি, কিন্তু নিজেরা মানি না। আমরা ফুটপাত ব্যবহার করি না। কাঁটাতার ভেঙে রাস্তার মাঝখান দিয়ে চলি। ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করি না। ময়লা ডাস্টবিনে ফেলি না। বরং ডাস্টবিন গায়েব করি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা জানি যে পলিথিন বিষাক্ত। কিন্তু বাজারে গেলে আমরাই পলিথিনে জিনিসপত্র দিতে বলি।’
ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের দুই মেয়রই ঢাকাকে সুন্দর করতে যথেষ্ট চেষ্টা করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এন এম জিয়াউল আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক দেশের প্রত্যেক জেলার শিল্প, সংস্কৃতি ঐতিহ্য ও পর্যটনকে তুলে ধরতে আলাদাভাবে ব্র্যান্ডিং করার জন্য ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।’
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনজুরুর রহমান।
তিনি বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও পর্যটন শিল্পের প্রসারের প্রেক্ষিতে প্রতিটি দেশ একে অপরের প্রতিযোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এ প্রতিযোগীতা থেকে সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী ঢাকা জেলাকে ব্র্যান্ডিং করার কোন বিকল্প নেই।ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার হেলালুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ঢাকা জেলার যথাযথ ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে রাজধানী শহর পরিচিতির বাইরে এটি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিত করানো সম্ভব।’
অনুষ্ঠানের সভাপতি ঢাকা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘যথাযথ পরিকল্পনা ও কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে ঢাকা জেলাকে সিঙ্গাপুরের মত আকর্ষণীয় বসবাসযোগ্য ও পর্যটন নগরীতে পরিণত করা সম্ভব। সে লক্ষ্যে ঢাকা জেলা প্রশাসন কর্তৃক বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী সংস্থার সমন্বয়ে ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্ববাসীর কাছে ঢাকাকে গ্রহণযোগ্য ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করতে, ঢাকা জেলার জন্য একটি সুন্দর লোগো ও থিম তৈরির উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা আহ্বান করা হয়েছিল। কর্মশালায় প্রতিযোগিদের মধ্যে প্রেরিত সেরা লোগো ও থিম চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করার জন্য প্রাপ্ত কয়েকশত লোগো ও ট্যাগলাইন থেকে প্রাথমিকভাবে তিনটি করে লোগো ও ট্যাগলাইন বিচারকমন্ডলী কর্তৃক আজ প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়। বিচারকমন্ডলী ও কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত লোগো ও ট্যাগলাইন প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জন শেষে চূড়ান্তভাবে একটি লোগো ও ট্যাগলাইন নির্বাচন করা হবে।’কর্মশালায় বিভিন্ন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে দলগত নির্ধারিত বিষয়ে বক্তব্য রাখেন এবং প্রতিযোগীতার বিচারক মন্ডলীর দায়িত্ব পালন করেন শিল্পী হাশেম খান, প্রত্নতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. সুফী মুস্তাফিজুর রহমান, ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী, ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন নেসার হোসেন, শিল্পী অধ্যাপক সমরজিত রায় চৌধুরী, ইতিহাসবিদ অধ্যাপক আব্দুল মোবিন চৌধুরী, ব্যারিস্টার হামিদুল মিজবাহ প্রমুখ।
কর্মশালায় শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ, শিল্পী,সরকারী কর্মকর্তা, আইনজীবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
Comments
Post a Comment