তিন ঘণ্টায় ৩ খুন নগরীতে

তিন ঘণ্টার ব্যবধানে নগরীতে দুটি হত্যাকা-ে তিন জন নিহত হয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যা ৭ টায় ডবলমুরিং থানার পোস্তারপাড় এলাকায় খুন হন সাগর মিয়া নামের এক গার্মেন্টস কর্মী। রাত ১০ টায় পাঁচলাইশ থানার পশ্চিম ষোলশহরের হামজারবাগ এলাকায় খুন হয়েছেন ইয়াছিন ও কাউসার নামের দুই যুবক।
পাঁচলাইশ
পাঁচলাইশের পশ্চিম ষোলশহর এলাকায় প্রেমঘটিত সংঘর্ষের জেরে দুই যুবক খুন হয়েছেন। ছুরিকাঘাত করে তাদের খুন করা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল রাতে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন ইয়াছিন আরাফাত (১৮) ও মো. কাউসার (২০)। ইয়াছিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবী নগর এলাকার জাহেদ মিয়ার ছেলে। কাউসারও একই এলাকায় মৃত জাকির হোসেনের ছেলে।
পাঁচলাইশ মডেল থানা ওসি (তদন্ত) গিয়াস উদ্দিন জানান, প্রেমঘটিত কারণে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুইপক্ষের সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। ছুরিকাঘাতে তাদের খুন করা হয়। একজন ঘটনাস্থলে ও আরেকজন চমেক হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। ঘটনাস্থল থেকে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন প্রধান সন্দেহভাজন সজীব ও ফারুক। অন্য দুইজনের নাম জানা যায়নি।
পুলিশ, এলাকাবাসী ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর জানান, বায়েজিদের শান্তিনগর এলাকায় বসবাসকারী এক মহিলার সাথে সজীব নামে এক ছেলের প্রেমের সম্পর্ক হয়। দুইজনই শান্তিনগর এলাকায় থাইফুড নামে একটি কারখানায় চাকুরি করেন। কিন্তু তাদের প্রেমে বাধা হয়ে দাঁড়ান হামজারবাগ এলাকার করিম নামের এক যুবক। গতকাল রাত ৯টার দিকে করিমের নেতৃত্বে হামজারবাগ এলাকায় থেকে ১০-১২ জনের একদল যুবক শান্তিনগর এলাকায় গিয়ে থাইফুডের এক কর্মচারীকে আটকে রাখেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে থাইফুড ও শান্তিনগর থেকে লোকজন জড়ো হয়ে শান্তিনগরের এম নাজের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ এলাকায় হামজারবাগ থেকে আসা যুবকদের ওপর হামলা চালান। মারধরের এক পর্যায়ে কাওসার হোসেন ঘটনাস্থলে মারা যান। আর ইয়াছিনকে চমেক হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান।
চমেক হাসপাতালে নিহত ইয়াছিনের বাবা ও মা বিলাপ করতে করতে বলেন, ইয়াছিন তাদের একমাত্র ছেলে। তার চার বোন রয়েছে।
তারা বলেন, এলাকাবাসী আমিন জুট মিল এলাকার স্টাফ কলোনির আনসার ক্যাম্পের সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় ইয়াছিনকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। ইয়াছিনের চাচা নাজমুল মিয়া জানান, কোথায় মারামারি হয়েছে জানি না। কলোনির লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে এনেছেন। ইয়াছিনের বাবা ও চাচা আমিন জুট মিলে চাকুরি করেন। ১৯৭২ সালে তারা চট্টগ্রামে এসেছেন বলে জানান চাচা নাজমুল মিয়া।
তার মা রেহেনা আক্তার জানান, ইয়াছিন একটি ওয়াশিং কারখানায় চাকুরি করে। বিকেলে চাকুরি থেকে ফিরে বাসায় ইফতার করেছে। এক ছেলে তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়।
পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোবারক আলী জানান, দুই গ্রুপের সংঘর্ষে তারা মারা যান। করিমের নেতৃত্বে শান্তিনগর এলাকার সজীবকে আটকে মারধর করলে এলাকাবাসী পাল্টা হামলা চালান। এতে দুইজন মারা যান।
পোস্তারপাড়ে ছুরিকাঘাতে কিশোর খুন
নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন পোস্তারপাড় এলাকায় ছুরিকাঘাতে এক কিশোর নিহত এবং অপর একজন আহত হয়েছে। পুলিশ বলেছে, নিহত সাগর মিয়া (১৭) ওই এলাকার এসএমএস গার্মেন্টেসের আয়রনম্যান। বৈদ্যুতিক পাখার বাতাস কার দিকে যাবে তা নিয়ে আগের দিনের ঝগড়ার জের ধরে এই ঘটনা ঘটেছে। তবে নিহতের পিতা বাবুল মিয়ার দাবি তার ছেলে ওই কারখানা থেকে দেড় মাস আগে চাকুরি ছেড়ে দিয়েছে। এর মাঝে আবার যোগদান করেছে কিনা তা তার জানা নেই। নিহত কিশোরের বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায়। তারা টাইগারপাস পুলিশ বিট সংলগ্ন ভাড়া বাসায় থাকতো। এই ঘটনায় বদিউজ্জামান নামে আরেকজন গার্মেন্টস কর্মী আহত হয়েছে।
নিহত সাগর মিয়ার পিতা বাবুল মিয়া পূর্বকোণকে জানান, ইফতারের সময় তিনি খবর পান তার ছেলেকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। ছুটে গিয়ে রক্তাক্ত ছেলেকে দেখতে পান। তিনি জানান, তার ছেলে ওই গার্মেন্টসে তিন মাস চাকুরি করেছিল। দেড় মাস আগে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে বেরিয়ে সে টাইলসের মিস্ত্রি হিসেবে কাজ শুরু করে। ওই কারখানায় আবার গেছে কিনা কিংবা সেখানে তার সাথে কারো ঝগড়া হয়েছে কিনা এরকম তথ্য তার কাছে নেই। কারা, কেন তার ছেলেকে হত্যা করেছে তাও তিনি ধারণা করতে পারছেন না। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ পিতা বাবুল মিয়া থানায় যেতেও রাজি নন। তিনি বলেন, আট-দশ তলায় ইট-বালি তুলে ছেলেকে বড় করেছি। ঘাতকরা তাকে বাঁচতে দিল না। মামলা করে কি হবে। ছেলেকে তো মেরে ফেলেছে। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, কেউ শত্রুতা করার বিষয়টি আঁচ করতে পারলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যেতেন। কিন্তু ঘাতকরা সেই সুযোগও দিল না।
জানতে চাইলে ডবলমুরিং থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কায়সার পূর্বকোণকে জানান, গত রবিবার পোস্তার পাড় এসএমএস গার্মেন্টসে বৈদ্যুতিক পাখার বাতাস খাওয়া নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের আয়রনম্যানদের মাঝে প্রথমে বাকবিত-া, একপর্যায়ে মারামারি হয়। কর্তৃপক্ষের নজরে এলে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি মিটমাট করে দেয়। কিন্তু তার জের ধরে আজ অর্থাৎ গতকাল সোমবার ইফতারের পর পর উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারি লেগে যায়। প্রতিষ্ঠানের আয়রনম্যান বদিউজ্জামানকে মারধর করার সময় তাকে বাঁচানোর জন্য সহকর্মী সাগর এগিয়ে আসে। এসময় সাগরের পেটে ছুরিকাঘাত করে প্রতিপক্ষ। তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু ঘটে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান। আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে বলে গতকাল রাত ১১টায় পূর্বকোণকে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

Comments

LMP - Last Month Popular

প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং| শীর্ষে ব্র্যাক, নর্থ সাউথ ও আইইউবি

ফোরজি সেবা পেতে জানতে হবে তিনটি তথ্য

সামনের সপ্তাহেই পুত্রকে সরাসরি সিংহাসনে বসাবেন বাদশাহ সালমান!