রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরোধিতা রওশনের


বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ সংসদে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরোধিতা করেছেন। জাপানের ফুকোশিমা বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমাদের এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে লিকেজ দেখা দিলে কে দেখবে? এটা হলে মানুষ আস্তে আস্তে মারা যাবে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য কোথায় রাখা হবে? এর জন্য কি কোনো চুক্তি করা হয়েছে? এটা না করলে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র করা যাবে না।





জাতীয় সংসদে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বুধবার এ প্রশ্ন করেন বিরোধীদলীয় নেতা।


রওশন এরশাদ বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। যদি বিশেষজ্ঞ না থাকে তাহলে এটা করা যাবে না। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এটা চালাবে কারা? এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়া সহায়তা দিচ্ছে। রাশিয়া হয়তো ১০ বছর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর সহায়তা দেবে তারপর কি হবে? জাপানে সুনামির কারণে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে লিকেজ দেখা দিয়েছিলো। পরে তারা সেটা বন্ধ করে দিয়েছে।


বিরোধীদলীয় এই নেতা আরও বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়েছে। এই রিজার্ভ চুরির দায় কে নেবে? অর্থমন্ত্রীকে এর জবাব দিতে হবে।


রওশন এরশাদ অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, সরকারি ব্যাংক থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা লুট হয়ে গেছে। এটা কার সাহায্যে হয়েছে? বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়েছে এটা দেশের ইতিহাসে বিরল ঘটনা। এই টাকা কার? এ টাকা দেশের জনগণের টাকা। এ টাকা ফিরিয়ে আনার কি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে আমরা জানি না। উনি (অর্থমন্ত্রী) কি এর উত্তর দেবেন।


তিনি স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি করেন। একইসঙ্গে শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, জিপিএ ৫ পাওয়া ছেলেমেয়েরা ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করছে, তারা দেশের রাষ্ট্রপতি, রাজধানীর নাম বলতে পারে না। শিক্ষার মান উন্নত করতে বাজেট বৃদ্ধির দাবি জানান তিনি।


বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশে এখনও গরীব মানুষ ঠিকমত খেতে পায় না, কৃষক ফসল ফলালেও তার পেটে ভাত নেই। তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ঠিকমত পান না। বিশেষ করে মেয়েরা পেট ভরে খেতে পায় না, তাদের পুষ্টির অভাব কিভাবে দূর করা যায় তা প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে হবে। এছাড়া খাদ্যে ভেজাল দিচ্ছে। এটি বন্ধ করা দরকার।


রওশন বলেন, দেশে সুশাসন নিশ্চিত করা বিশেষ প্রয়োজন। আগের কোন সরকার কি করেছে তা বলে লাভ নেই, তারা অধম বলে কি আপনি উত্তম হবেন না।


সর্বশেষ তিনি প্রস্তাবিত ২০১৬-১৭ সালের বাজেট কিভাবে বাস্তবায়িত হবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, এ বাজেটে আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তা কিভাবে আদায় হবে। দেশে এখনও অনেকেই আয় বেশি হলেও কর দেয় না। তাদের করের আওতায় আনতে হবে। তাছাড়া অর্থ লুটপাট বন্ধ করতে বিশেষ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।


এসময় রওশন বাজেটে কৃষি ও কৃষকসহ দরিদ্র মানুষের সুবিধার জন্য শিল্প উন্নয়নসহ এসব খাতে কর কমানোর দাবি জানান। তিনি স্বপ্ন পূরণের বাজেট যাতে স্বপ্নই না থাকে তা দেখার জন্য অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।



Comments

LMP - Last Month Popular

প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং| শীর্ষে ব্র্যাক, নর্থ সাউথ ও আইইউবি

ফোরজি সেবা পেতে জানতে হবে তিনটি তথ্য

সামনের সপ্তাহেই পুত্রকে সরাসরি সিংহাসনে বসাবেন বাদশাহ সালমান!